ঢাকা: শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

আফ্রিকার দেশ গিনিতে আরেক ভয়াবহ ভাইরাস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে নতুন আরেক ভাইরাস নিয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। নতুন যে ভাইরাসটি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে তার নাম মারবার্গ ভাইরাস। আফ্রিকার দেশে গিনিতে ছড়িয়েছে ভাইরাসটি।

করোনা ভাইরাসে যখন বেশিরভাগ দেশে মৃত্যুহার ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে বা এর কাছাকাছি, সেখানে মারবার্গ ভাইরাসে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ। কখনও কখনও এ হার ৮০ শতাংশও হতে পারে। এবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের দেহে যেসব লক্ষণ দেখা যায়, এ ভাইরাসে আক্রান্তদের দেহেও সেসব লক্ষণ পাওয়া যায় বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

এ ভাইরাসটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ ভাইরাসগুলোর একটি বলে থাকেন অনেকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই রোগে আক্রান্ত কোনো মানুষের শরীরে যেসব লক্ষণ থাকবে তার মধ্যে আছে- নাক দিয়ে রক্ত পড়া। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি মুখ দিয়ে কোনো ভাব প্রকাশ করতে পারে না বলেও জানানো হয়েছে। এসবের সঙ্গে মাথাব্যথা, পাতলা পায়খানা, পেটে ব্যথা এবং বমিও থাকে।

এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত গিনিতে একজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। আর গিনির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে তারা ১৫৫ জনতে আইসোলেশনে রেখেছে।

ঘটনার শুরু ২৫ জুলাই। ওই তারিখে গিনিতে একজনের শরীরে মারবার্গ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। আগস্ট মাসের প্রথম দিন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঠিক তার পরদিন অর্থাৎ ২ আগস্ট মারা যান ওই ব্যক্তি। তার মৃত্যুর কারণ তখন জানা না গেলেও পরে জানা যায় তিনি মারবার্গ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

এখন যে ১৫৫ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে গিনি বলছে তারা ওই মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন।

গিনির গুয়েকেডু নামে গ্রামটিতে ওই ব্যক্তি থাকতেন। এ গ্রাম থেকে সিয়েরা লিওন এবং লাইবেরিয়া খুব বেশি দূরে নয়। সব মিলিয়ে গিনির স্বাস্থ্য বিভাগকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। কারণ প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমাদের হাতে বেশি কিছু ভ্যাকসিন থাকলেও মারবার্গ ভাইরাস ঠেকাতে পারে এমন কোনো ভ্যাকসিনের অনুমোদন এখনও দেওয়া হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রিয়াসুস জানিয়েছেন, এ ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে।

এসকে

Rent for add

Facebook

for rent