ঢাকা: শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

মহাত্মা গান্ধী কেন কখনও নোবেল পাননি

নোবেল প্রাইজ কে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার। ১৯০১ সাল থেকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ফিজিওলজি অথবা মেডিসিন, লিটারেচার ও শান্তির জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

এখন জেনে নেওয়া যাক মহাত্মা গান্ধী কেন জীবনে নোবেল পুরস্কার পেলেন না।

নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে ১৯০১ সাল থেকে। মহাত্মা গান্ধীও দেশ-বিদেশে বেশ বিখ্যাত ছিলেন। তারপরও কেন তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি?

তার অবদান সম্পর্কে তো সবারই কম-বেশি ধারণা আছে। তাকে ভারতের জাতির পিতা বলা হয়ে থাকে। অহিংসার পথে অবিচল থেকে তিনি ভারতকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। সমাজকে ভালো বহু বার্তা দিয়েছেন তিনি। বেঁচে থাকার সঠিক দিশা দেখিয়েছেন। তার সম্পর্কে ইতিবাচক কথা যতই বলা হোক না কেন, তা কমই বলা হয়।

মহাত্মা গান্ধীকে নোবেল পুরস্কারের জন্য চারবার মনোনয়ন দেওয়া হয়। ১৯৩৭, ১৯৩৮, ১৯৩৯ ও ১৯৪৭ সালে। ১৯৪৭ সালের আগস্টে স্বাধীন হয় ভারত। ভারত স্বাধীনতা লাভের আগেই ওই বছরের নোবেল পুরস্কার কারা পাচ্ছেন তা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। তাই সেবারও নোবেল পাননি মহাত্মা গান্ধী।

কিন্তু ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৪৮ সালে আবারও তার নাম আছে নোবেল পুরস্কারের জন্য। সেবার প্রায় চূড়ান্তই হয়ে গিয়েছিল যে মহাত্মা গান্ধী নোবেল পাচ্ছেন। কিন্তু ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নাথুরাম বিনায়েক গোডসে তাকে হত্যা করেন। নোবেল পুরস্কারের চূড়ান্ত ঘোষণা আসার আগ মুহূর্তে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। নোবেল কমিটি মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে এবং বলে নোবেল শান্তি পুরস্কার মহাত্মা গান্ধীকে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, নোবেল পুরস্কার কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, মৃত্যুর পর কাউকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় না।

যদি মহাত্মা গান্ধীর নাম নোবেল জয়ী হিসাবে ঘোষণা করা হয়ে গিয়ে থাকতো, আর তারপর যদি এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটতো, তাহলে তিনি অবশ্যই নোবেল পেতেন।

মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর কারণে ওই বছর শান্তিতে কাউকে নোবেল পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮৯ সালে দালাই লামা যখন শান্তিতে নোবেল পান তখন নোবেল কমিটির প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, দালাই লামাকে দেওয়া এই পুরস্কার আসলে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী।

বিএস/এনএফ

Rent for add

Facebook

for rent