ঢাকা: শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনাকালে সিনেমার শুটিং কিভাবে হলো?

করোনার মহামারী চলাকালীন কয়েক মাস ধরে বন্ধ থাকার পরে চলচ্চিত্র ও টিভি প্রোগ্রামগুলির শ্যুটিং শুরু হচ্ছে। তবে সেটে যারা কাজ করছেন তাদের ভূমিকা পাল্টে গেছে।

সেটে ফিরে আসা লোকদের জন্য, সবকিছু এক রকম ছিল না। নতুন সুরক্ষা নির্দেশিকা অনুসরণ করে তাদের নিজের কাজের নতুন সংজ্ঞা দিতে হবে।

ব্রিটেন এবং অন্যান্য দেশে চলচ্চিত্র তৈরির কিছু লোকের সাথে কথা বলেছে বিবিসি এবং ক্রু সদস্যরা কীভাবে চলচ্চিত্র প্রযোজনার এই নতুন পর্যায়ে কাজ করছেন তা বোঝার চেষ্টা চালিয়েছে।

হেলেন জোন্স – প্রযোজক
জোন্স নিয়াম আলগার এবং মাইকেল স্মাইলি অভিনীত একটি হরর ফিল্ম তৈরি করছেন। ২০২১ সালে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। জোন্স যখন মার্চের শেষের দিকে ছবিটির কিছু অংশের শ্যুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কোভিড -১৯ এর জন্য তখন কাজ বন্ধ করতে হয়েছিল।

লকডাউন চলাকালীন, তিনি কঠোর শুটিংয়ের গাইডলাইন সংগ্রহ করতে থাকলেন, যা ব্রিটিশ ফিল্ম কমিশন (বিএফসি) এর সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছিল।

২৭ জুলাই লন্ডনে তিনি ৪ দিনের শুটিংয়ে নেমেছিলেন, যদিও ছবিটি প্রাথমিকভাবে উত্তর ইংল্যান্ডে শুটিং করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আমাদের সময় কম ছিল। আবার বিপদ কমা পর্যন্তও আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আমরা চাচ্ছিলাম কোনও অভিনেতা বা ক্রুর সদস্য যেন অন্য কোনও প্রকল্পে চলে না যান।”

সেটে আবার শুটিং শুরু করার বিষয়ে বিএফসির নির্দেশিকা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১ জুন। তারপর থেকে তারা ক্রমাগত সেটা পরিবর্তন করে চলেছে।

জোন্স এই নির্দেশিকাটি প্রতিদিন দেখতেন। তাদের লাইন প্রযোজক এবং প্রথম সহকারী পরিচালককে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে, এছাড়া একজন কোভিড -১৯ হেলথ সুপারভাইজার সবসময় সেটে হাজির থাকতেন।

নির্দেশিকাগুলিতে পরামর্শ দেওয়া হয় যে যেখানে সম্ভব সেখানে সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করা উচিত। যেখানে দুই মিটার দূরত্ব রাখা সম্ভব নয়, অল্প সময়ের মধ্যেই কাজটি শেষ করা উচিত এবং মানুষের সংখ্যা সীমিত করতে হবে।

জোন্স বলেন, “সেটে নিজেকেই নিজে জিজ্ঞাসা করতে হবে যে এই ব্যক্তিটি কি এখানে গুরুত্বপূর্ণ?”

জোন্স তার সেটটিতে কেবল ক্যামেরা এবং সাউন্ড ক্রু রেখেছিলেন, পোশাক, চুল এবং মেকআপ বিভাগ সেট থেকে দূরে রেখেছিলেন। যদি তাদের কাউকে সেটে আসতে হতো তবে তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে দেয়া হয়েছিল।

ক্রু সদস্যদের সংখ্যা হ্রাস করার পাশাপাশি, সুরক্ষিতভাবে কাজ করার জন্য আরও কিছু উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন জোন্স। তিনি বলেন, “রিমোট মনিটরিং সিস্টেমটি খুব ভালভাবে কাজ করেছিল।

কর্মীরা প্রতিদিন কাজের সময়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তবে জোন্স মনে করেন যে পরিস্থিতি তাকে তার কাজের আরও কাছে এনেছে। তিনি প্রায় তিন মাস বাড়িতে বসে থাকার পরে যখন কাজে ফেরেন, তখন সেটে তার উতসাহ-উদ্দীপনা তার কাজে সফলতা এনে দেয়।

তিনি বলেন, “কিছু কাস্ট এবং ক্রু সদস্যরা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক ছিলেন, তবে আমি মনে করি এ জাতীয় কাজ একটি ভাল পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত শুটিং সফল হয়েছিল।”

প্রাণো বেলি-বন্ড – পরিচালক
বেইলি-বন্ড সেন্সর চলচ্চিত্রের পরিচালক এবং সহ-লেখক। এটি তার প্রথম ফিচার ফিল্ম, যা বর্তমানে পোস্ট-প্রযোজনায় রয়েছে।

বেইলি-বন্ড চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্য নতুন সুরক্ষা নির্দেশিকা তৈরি করতে সহায়তা করেছিলেন।

তিনি বলেন, আমাদের কোভিড -১৯ সিকিউরিটি অফিসার বলে বসতেন যে এই জায়গায় আপনার কেবল ৬ জন সহায়ক অভিনেতা থাকতে পারবেন। সুতরাং আমাকে তখন ভাবতে হয়েছিল যে, কীভাবে শুটিং করলে দেখে মনে হবে এখানে আরও বেশি লোক আছে”

তিনি একটি রেস্তোরাঁয় একটি দৃশ্যের শুটিং সম্পর্কে বলেছেন, “রাতের খাবার খাওয়ার জন্য সেখানে কেবল তিন জন বসে আছেন, যেহেতু আমরা একটি ছোট জায়গায় শুটিং করছিলাম, তাই অন্যান্য টিমকে আমাদের সেখানে আসতে বাধা দিতে হয়েছিল।”

“যদি আর্ট বিভাগটি কাজ করতে আসে তবে আপনাকে লাইটিং ক্রুদের থামাতে হবে। এটি পুরো শিডিউল লম্বা করে দিচ্ছিল।”

সেন্সর ফিল্মটি প্রায় ১৯৮৫ সালের প্রেক্ষাপটে। বেইলি-বন্ড মনে করেন যে চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট তাদের কিছু সুবিধা দিয়েছে।

“প্রতিটি দৃশ্যের জন্য আমাকে অন-স্ক্রিনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে বলেছিলেন ফিন্যান্সাররা। এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক হরর ফিল্ম, সুতরাং এটির জন্য আলিঙ্গন বা চুম্বনের দৃশ্যের দরকার ছিল না, তাই এর কনটেন্ট নিয়ে আমাকে খুব একটা ভাবতে হয়নি। “

বেইলি-বন্ড তার সহকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। শ্যুটিং শুরু করার আগে সেটে ফিরতে সবার সাথে তিনি সময় কাটিয়েছিলেন এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছেন।

ব্রিটেনের চলচ্চিত্র নির্মাণের নিকট ভবিষ্যত নিয়ে তিনি বলেন, এই মহামারি সিনেমাকে কতটা যে বদলে দেবে তা নিয়ে ভেবে তিনি হয়রান।

“আমাকে কিছু স্ক্রিপ্ট পাঠানো হয়েছিল, যা একই ঘরে একই চরিত্রে ফোকাস করে। সম্ভবত বিষয়বস্তুর মাধ্যমে পর্দায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার একটা চেষ্টা করা হয়েছে।”

বেইলি-বন্ড আশা করেন যে তিনি এবং তাঁর সহ-পরিচালকরা ভবিষ্যতে তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন। “আমি অস্ত্রোপচারের জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম, যেখানে আমি মনে করি না যে নির্দেশিকাটি আমাদের শিল্পের মতো কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।”

জোসেফ এসবার্গ – প্রোডাকশন ডিজাইনার
রুবেন আসলুন্ডের প্রথম ইংরেজি ফিচার ফিল্ম, “ট্র্যায়াঙ্গেল অব স্যাডনেস” -এ কাজ করছেন। করোনায় থেমে যাওয়ার পর জুনের শেষের দিকে সুইডেনে সিনেমাটির শুটিং আবার শুরু হয়েছিল।

“ট্র্যায়াঙ্গেল অব স্যাডনেস” এর কাজ তিন মাস ধরে স্থগিত ছিল। সুইডিশ পরিচালক আসলুন্ডের ১১ মিলিয়ন ডলার চলচ্চিত্রটি ইউরোপের অন্যতম বৃহত প্রযোজনা, যার শুটিং আবারও শুরু হয়েছে।

এসবার্গ বলছেন, “আমার বিভাগ প্রধান ক্রু আসার আগেই কাজ শুরু করে দিয়েছিল। কাজের পরিবেশ খুব ভালো ছিল। কয়েক মাস কাজ না করে, সেটে ফিরে সবাই খুব খুশি হয়েছিল।”

এসবার্গ পশ্চিম সুইডেনের ট্রোলহ্যাটান শহরের একটি স্টুডিওতে কাজ করছেন। এখানে লকডাউনের আগে কাজ শুরু হয়েছিল।

আউসলুন্ডের প্রথম ইংরেজি ছবিতে উডি হ্যারেলসন এবং ব্রিটিশ অভিনেতা হ্যারিস ডিকেনসন রয়েছেন। শুটিং শুরু হওয়ার ২৫ দিন পরই কোভিড -১৯ এর কারণে কাজ বন্ধ করতে হয়েছিল।

এসবার্গ বলেছিলেন, “শুটিংয়ের প্রথম দিন দল ইউনিটগুলোকে বিভিন্ন রঙে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। আর্ট বিভাগ থেকে আসা বলে আমাকে গোলাপী রঙ দেওয়া হয়েছিল। আমি একদিন সবুজ রঙও পেয়েছিলাম, যা মূল ইউনিটের রঙ। সবুজ রঙধারীরা ফটোগ্রাফি পরিচালক এবং অভিনেতাদের সাথে সেটটিতে থাকতে দেওয়া । “

“আমাদের হোটেল রেস্তোঁরা বন্ধ। সকাল আর দুপুরের খাবার আমাদের বক্সে করে দেয়া হয়। আমরা মাস্ক পরে থাকি আর অভিনেতাদের কাছে কাজ করা প্রত্যেককেই ফেসশিল্ড পরতে হয়, আমাদের তাপমাত্রা নেওয়ার জন্য থার্মোমিটারও দেওয়া হয়।”

এই ডিজাইনার বলছেন যে সেটে নতুন পদক্ষেপগুলো তার কাজ করার দক্ষতায় সত্যিকারের প্রভাব ফেলেনি, তবুও প্রাথমিকভাবে সহকর্মীদের সাথে তার যোগাযোগের একটা ঘাটতি ছিল।

“আমি অদ্ভুত বোধ করতাম যে আমি কাউকে জড়িয়ে ধরতে পারি না, তবে এটি আজ সাধারণ বিষয়।”

হ্যারেলসনকে শুটিংয়ের জন্য সুইডেনে আসতে দেওয়ার জন্য সুইডিশ সীমান্ত পুলিশ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি বিভাগকে বোঝাতে হয়েছিল।

অন্য দেশ থেকে প্রবেশ ১৭ মার্চ বন্ধ করে দেয় সুইডেন। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তা বন্ধই ছিল।

হেরেলসনকে কাগজপত্রের জটিলতায় লস অ্যাঞ্জেলেসে আটক করা হয়েছিল, তখন ফিল্মটির প্রযোজকরা বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের ফোন করে বোঝান যে, না ,সবকিছু ঠিক আছে।

মহামারী চলছে, তবুও এসবার্গ তার কাজ সম্পর্কে আশাবাদী। “মনে হচ্ছে এখন আবার বেশ কাজ শুরু হয়েছে, তাই সামনের দিনগুলো বেশ ভালোই মনে হচ্ছে।”

লিজি টালবট – ইনটিমেসি কোঅর্ডিনেটর
টলবট বর্তমানে দুটি প্রকল্পে কাজ করছেন। তিনি স্টেজ এবং স্ক্রিনে ইনটিমেসির একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন।

এই ইনটিমেসি কোঅর্ডিনেটররা ফিল্ম এবং টিভি সেটগুলির একটি অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ হয়ে উঠছেন, বিশেষত #MeToo এবং টাইমস আপ আন্দোলনের পরে। টালবট বলেছেন, “আমাদের কাজটি হলো সবচেয়ে নিরাপদে পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা।”

তার কাজের মধ্যে রয়েছে- যৌনতাপূর্ণ ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের কোরিওগ্রাফি করা। এছাড়া পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার দৃশ্যের মতো দৃশ্য চিত্রায়নেও তাদের সহায়তা প্রয়োজন হয়।

একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য থেকে কী চাওয়া সে বিষয়ে পরিচালক এবং অভিনেতাদের সমন্বয়ের কাজের জন্যও তাদের প্রয়োজন হয়।

বিএফসির নির্দেশিকা শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্যের চিত্রায়নে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই নির্দেশিকাগুলির পরেই ইনটিমেসি কোঅর্ডিনেটরের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়।

মনুষের নিজস্বতা এবং অন্যান্য সীমাবদ্ধতার বিষয়ে মানুষ আগের চেয়ে সচেতন হয়েছে। কোভিড -১৯ এর কারণে যদি তারা এটি নিয়ে চিন্তা করে থাকে তবে এটি একটি ইতিবাচক বিষয়।

টলবট তার ক্ষেত্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসাবে যুক্তরাজ্য ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ ইউনিয়নের পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছেন।

তিনি অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে কাস্ট এবং ক্রু সদস্যদের সুরক্ষা সম্পর্কিত বিস্তারিত গাইডলাইন তৈরিতে সহায়তা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, শারীরিক সম্পর্ক এবং নগ্নতার সাথে জড়িত দৃশ্যে তিনি ক্যামেরার নানা কৌশলের ক্ষেত্রেও অবদান রাখছেন।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যদি অভিনেতাদের ২ মিটারের বেশি কাছাকাছি আসতে হয়, তবে পরীক্ষার এবং কোয়ারেন্টাইনের পদ্ধতিগুলি কঠোরভাবে অনুসরণ করা উচিত। অভিনেতাদের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আগে ১৪ দিনের জন্য নিজেকে কোয়ারেন্টিনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লকডাউনের পরে চলচ্চিত্র নির্মাণকারী সংস্থাগুলি অন্তরঙ্গ দৃশ্যের জন্য অনেক নতুন সৃজনশীল উপায় আবিষ্কার করছে। এই উপায়গুলির মধ্যে একটি হলো প্রেমের দৃশ্যের জন্য শিল্পীদের বাস্তব-জীবনসঙ্গী ব্যবহার করা। আমেরিকান সিরিয়াল “দ্য বোল্ড এবং বিউটিফুলে” এটি চেষ্টা করা হচ্ছে।

ব্যক্তিগত এবং পেশাদার জীবনের পার্থক্য অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলোকে আসলে জটিল করে তোলে। টালবট বলছেন, “অনুভূতিগুলি আসল, তবে আপনার শরীরটি সেই সময়ের হরমোন অনুভব করে তবে এই পরিস্থিতিগুলি আসল নয়, আপনার দু’জন স্পটলাইটের আওতায় আছেন এবং আরও ২০ জন আপনাদের দেখছে।”

লকডাউনের পর অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলোতে পুতুল-জাতীয় কিছু ব্যবহারের চেষ্টাও করা হচ্ছে। “দ্য বোল্ড অ্যান্ড বিউটিফুলে” এটাও চেষ্টা করা হয়েছে।

থাই এবং বলিউড চলচ্চিত্রের সেটে প্রেমের দৃশ্যগুলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, অন্যদিকে নেটফ্লিক্স শো রিভারডেল চিত্রনাট্য পরিবর্তনের উপায় খুঁজে পেয়েছে।

সেটগুলোতে অভিনেতাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার উপর জোর দেওয়ার কারণে ইনটিমেসি কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব বেড়ে গেেছে।

Rent for add

Facebook

for rent