ঢাকা: শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

চাঁদ থেকে পাথর নিয়ে পৃথিবীতে ফিরল মহাকাশযান

চাঁদ

চীন প্রথমবারের মতো চাঁদ থেকে পৃথিবীতে তাজা পাথরের নমুনা আনতে সফল হয়েছে। এটি চীনের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি বড় অর্জন। এটি সৌরজগতের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে।

চীনের ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার আগে ‘চাং ই ফাইভ’ ক্যাপসুলটি ইনার মঙ্গোলিয়া প্রদেশের সিশিওয়ংয়ে অবতরণ করেছে। ক্যাপসুলটি প্রথমে তার কক্ষপথের মডিউল থেকে পৃথক হয় এবং তারপর গতি কমিয়ে আনে। এরপরে প্যারাসুটের সাহায্যে এটি মাটিতে অবতরণ করে।

এরপরে ক্যাপসুল এবং এতে থাকা নমুনাগুলি বেইজিংয়ের স্পেস প্রোগ্রামের ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নমুনাগুলি খোলার ও পর্যালোচনা করার প্রস্তুতি শুরু হয়। ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলছে, এই মিশনে অনেক অর্জন হয়েছে, যেমন চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে যানটি চালানো এবং সেখান থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পৃথিবীতে ফেরত পাঠানোর জন্য ক্যাপসুল দিয়ে ডকিং করা।

মিশনের চারটি মডিউলগুলের মধ্যে দুটি চাঁদে ২ ডিসেম্বর অবতরণ করে এবং সেখান থেকে প্রায় দুই কিলো নমুনা সংগ্রহ করে। এর জন্য তারা পৃষ্ঠ থেকে নমুনাও নিয়েছিল এবং পৃষ্ঠের প্রায় ছয় ফুট পর্যন্ত ড্রিল করে। এরপরে নমুনাগুলি একটি সিলড কনটেইনারে রেখে মডিউলে প্রেরণ করা হয়েছিল।

এক বিবৃতিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এটিকে একটি বড় অর্জন বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন যে চীনের মহাকাশ কর্মসূচিতে একটি বড় পদক্ষেপ এটি।

এই কর্মসূচির আওতায়, ৪০ বছরে প্রথমবারের মতো, চাঁদ থেকে পাথরের নমুনা পৃথিবীতে আনা হলো। এর আগে ১৯৭৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের লুনা ২৪ রোবট প্রোব চাঁদ থেকে পাথরের নমুনা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিল। নতুন আনা চীনের এই নমুনা যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের আনা নমুনার থেকে পরে তৈরি হওয়া পাথর এ থেকে তারা চাঁদের ইতিহাস এবং সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এবারের নমুনা চাঁদের সেই অংশ থেকে আনা হয়েছে যা ওশেনিয়াস প্রসেলারারাম বা ‘ঝড়ের সমুদ্র’ নামে পরিচিত। এটি মনস রুমকার নামে সাইটের নিকটে অবস্থিত, যা প্রাচীন যুগে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ ছিল বলে মনে করা হয়। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর স্পেস সায়েন্সের পরিচালক ব্র্যাড জলিফ বলেছেন যে, এই নমুনাগুলির বয়স এক বিলিয়ন থেকে তিন বিলিয়ন বছরের হবে। এ থেকে চাঁদ নিয়ে অজানা অনেক কিছু জানা যাবে।

তিনি আরও বলেছিলেন যে চাঁদে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ যেমন ঘন হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের প্রাপ্যতা সম্পর্কেও কিছু জানা যেতে পারে।

Rent for add

Facebook

for rent