ঢাকা: বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

ভারতে জনপ্রিয়তায় ক্রিকেটের পর এখন কাবাডি

কাবাডি

ব্রিটিশ পুরষ্কারপ্রাপ্ত পরিচালক অ্যালেক্স গেইল লক্ষ লক্ষ ভারতীয়র পছন্দের খেলা কাবাডি বোঝার জন্য ২০১৯ সালে প্রায় ছয় মাস ধরে একটি কাবাডি দল পর্যবেক্ষণ করেন।

গেইল অভিষেক বচ্চনের মালিকানাধীন ‘জয়পুর পিংক প্যান্থার্স’ নামে একটি পেশাদার কাবাডি দলকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তাঁর সিরিজ ‘সন্স অব দ্য সয়েল’ গত সপ্তাহে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে প্রচারিত হয়েছে। এতে ঐতিহ্যবাহী খেলাটিকে জনপ্রিয় খেলা হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে।

গেইল বলেছেন: “আমরা কাবাডিতে নতুন গ্ল্যামার যুক্ত করার চেষ্টা করছি তবে একই সাথে আমরা এর সংস্কৃতি দেখিয়ে এর দেশীয় প্রকৃতি বজায় রাখছি। আমরা কাবাডিকে ভারতে এবং বিশ্বের আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে আকর্ষণীয় খেলা হিসাবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছি।”

কাবাডি

নতুন করে গ্ল্যামার যুক্ত হওয়ার এ বিষয়টি নতুন করে কাবাডির প্রসারে বেশ কাজে দিয়েছে। বিশেষে করে টেলিভিশনের পর্দায় প্রো কাবাডি কারণে কাবাডির চিত্রে বড় একটি পরিবর্তন এসেছে। ভারতে কাবাডি এখন ক্রিকেটের পর সর্বাধিক দেখা খেলা হয়ে উঠেছে। এটি ছোট গ্রাম থেকে আসা অনেক ক্রীড়াবিদদের জীবনকেও বদলে দিয়েছে।

লিগটি আটটি দল নিয়ে ২০১৪ সালে শুরু হয়েছিল তবে এখন লিগে ১২টি দল রয়েছে; যাদের খেলোয়াড় নিলামে নির্বাচিত হয়েছে। রঙিন ইউনিফর্ম পরিহিত খেলোয়াড়েরা উজ্জ্বল আলোতে এবং রাবারের ম্যাটে ৪০ মিনিটের একটি খেলা খেলেন। কাবাডিভক্তদের মধ্যে রয়েছে বলিউড ও ক্রিকেট তারকারাও।

উদ্বোধনী মরসুমে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন লোক টিভিতে ম্যাচটি দেখেছিল।

“শ্রমজীবী ​​শ্রেণির মানুষের খেলা সফলভাবে টেলিভিশনে একটি জনপ্রিয় খেলা হয়ে উঠেছে,” বলছেন ভারতের ক্রীড়া নির্মাতা জয় ভট্টাচার্য।

নির্মিত ছবিতে অভিষেক বচ্চন বলেছেন, “আমিও আমার দলের একটি অংশ।”

জয়পুর পিংক প্যান্থার্স ২০১৪ সালে উদ্বোধনী লিগের বিজয়ী ছিল, যদিও তারা এরপর আর শিরোপা জেতেনি, তবে তারা সবচেয়ে জনপ্রিয় দলগুলির মধ্যে রয়েছে।

কাবাডি

গেইলের ক্যামেরায় কাবাডিে যে দর্শকদের দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে অভিষেক বচ্চন নিজে, তাঁর বাবা অমিতাভ বচ্চন এবং স্ত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। এর মধ্যে দিয়ে ভারতে জনপ্রিয় খেলা এবং বলিউডের হাত মিলছে বলে অনেকে মনে করছেন।

হরিয়ানায়, গেইল একটি শহরাঞ্চলে একটি কাবাডি টুর্নামেন্ট ফিল্ম করেছিলেন। তারা দলের সদস্য দীপক নড়োলের বাসায় দেশি ঘি পেয়েছে। তিনি এখানে তার বাবামায়ের সাথে বসবাস করেন। কাবাডির প্রাণ হিসাবে পরিচিত একটি অঞ্চলে তার পরিবারের বসবাস এবং এই খেলার সাথে তারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বড় পর্দায় একটি কাবাডি ম্যাচ দেখার জন্য শত শত সৈন্যকেও চিত্রায়িত করেছিলেন গেইল, যা তার জন্য “বিশেষ অভিজ্ঞতা”।

গেইল হরিয়ানার একটি গ্রামে চোট পাওয়া একজন খেলোয়ারকে দেখিয়েছেন কিভাবে তার মা মাথায় মালিশ করছেন।

সিরিজটি দেখায় যে কীভাবে কাবাডি নতুন এই সময়ে এসে হাজারো খেলোয়াড়ের জীবনে ভূমিকা রাখছে। খেলোয়াড়রা কাবাডি থেকে উপার্জিত অর্থ ঘর, গাড়ি এবং গৃহস্থালি সামগ্রী কিনতে ব্যবহার করেন এবং বিদেশী খেলোয়াড়দের সাথে ‘ভাষা ও সংস্কৃতির মিলন’ও দুর্দান্ত একটা ব্যাপার। জয়পুর দলের সদস্য সম্পর্কে লোকেরা সবসময়ই কৌতূহী ছিল।

কাবাডি ভারতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মহাত্মা গান্ধী কাবাডি খেলোয়ারদের জন্য একটি নিবন্ধও লিখেছিলেন।

Rent for add

Facebook

for rent