ঢাকা: শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

এক নজরে কুষ্টিয়া শহর, দেখার আছে কী কী

কুষ্টিয়া, কুষ্টিয়া শহর,
কুষ্টিয়া সদর বা শহরের আয়তন প্রায় ৩১৬.২৬ বঃ কিঃমি। থানা ২টি, সদর ও ইবি থানা।

কুষ্টিয়া খুলনা বিভাগের একটি শহর। এ শহরে চার লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। কুষ্টিয়া সড়ক, রেল ও নদী পথে বাংলাদেশের অন্যান্য শহরের সাথে সংযুক্ত। বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এখানে অবস্থিত। কুুুষ্টিয়া সাংস্কৃতিক রাজধানী নামেও পরিচিত।

কুষ্টিয়া সদর বা শহরের আয়তন প্রায় ৩১৬.২৬ বঃ কিঃমি। থানা ২টি, সদর ও ইবি থানা। পৌরসভা ১টি, ইউনিয়ন পরিষদ ১৪টি।

গড়াই নদী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্যতম বৃহত্তম নদী। গড়াই নদীর তীরে কুষ্টিয়া শহর এবং হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন অবস্থিত। গড়াইয়ের অপর একটি ক্ষীণ স্রোতধারা ‘বুড়ি গড়াই’ কুষ্টিয়া শহরের পশ্চিম উত্তর প্রান্ত থেকে বের হয়ে বাড়াদী গ্রামকে পৃথক করে জগতির পাশ দিয়ে সাইবাড়ীয়া বিলে মিশেছে।

সৈয়দ মর্তুজা আলীর মতে কোষ্টা (পাট) থেকে কুষ্টিয়া নামকরণ হয়েছে। ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার নাম নদীয়া ছিল। প্রশাসনিক অসুবিধার জন্য তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ইতিহাসবিদ সৈয়দ মর্তুজা আলী জেলা সদরের নামানুসারে বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার নাম প্রচলন করেন। স্থায়ীভাবে লোক মুখে কুষ্টিয়াকে কুষ্টে বলে। ৬টি উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া জেলার অতীত , বর্তমান, শিক্ষা,কৃষি, সংস্কৃতি, ইতিহাস- ঐতিহ্য, সংগ্রাম , রাজনীতি, শিল্প বাণিজ্যসহ সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছে।

বর্তমান কুষ্টিয়া জেলায় চেয়ে নির্ভুল ভাষা উচ্চারণভঙ্গি একমাত্র যশোর জেলা ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোন জেলায় পাওয়া যায় না। কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার সাধারণ মানুষ বিভিন্ন স্থানে স্বতন্ত্র টানে উচ্চারণ করে থাকে। অত্র উপজেলায় বাংলা ভাষা অত্যন্ত স্পষ্ট, উচ্চারণে জড়তাহীন, শ্রুতিমধুর এবং সকলের নিকট সহজে বোধগম্য। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সাংস্কৃতিক অবদান। লোকসংস্কৃতি বা গ্রামীণ সংস্কৃতি নানাভাবে সূদীর্ঘকাল ধরে পুষ্টি লাভ করছে। নানা উৎসব আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের গীত,গান, বাজনা, কবিগান, ভাবগান, পুঁথিপাঠ, কৃষানের মেঠো গান, যাত্রা, সার্কাস, পাঁচালী, অষ্টকগান, পদ্মপূরানের গান সর্বদা মুখরিত করে রেখেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এখানে বাউল গান , পালা গান, আড়ং ও মেলা, পুতুল নাচ, নৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন : ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার টোটকা

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ঝাউদিয়া গ্রামে চৌধুরী বাড়ীর উপর একটি প্রাচীন মসজিদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পুরাকীর্তির একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। ঝাউদিয়ার এই মসজিদটির ভিতরে মোঘল শিল্পকলার অপূর্ব নিদর্শন নানা কারুকার্যে শোভিত রয়েছে। মোঘল সম্রাট শাজাহানের আমলে ঝাউদিয়ার মসজিদটি নির্মিত হয়। এমন অপূর্ব কারুকার্য শোভিত মসজিদ খুব কম দেখা যায়। এ মসজিদে একটি বড় গম্বুজ ও অনেক মাঝারী এবং ছোট গম্বুজ রয়েছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জগতিতে ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া সুগার মিলস অবস্থিত। অত্র উপজেলায় বিসিক শিল্প নগরী গড়ে উঠায় এখানে অনেকগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে বিআরবি গ্রুব অব ইন্ডাস্টিজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছে। অত্র উপজেলায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় একদিকে যেমন কুষ্টিয়া জেলাসহ বাংলাদেশের সকল জেলার শিক্ষারদার উন্মুক্ত হয়েছে। তেমনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ঐতিহ্য বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭১ সালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকবাহিনীর যুদ্ধ হয়। ৮নং সেক্টরের অধীনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় যুদ্ধ হয়। তন্মধ্যে উজানগ্রাম ইউনিয়নের বংশীতলা , আবদালপুর ইউনিয়নের করিমপুর উল্লেখযোগ্য। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বৃত্তিপাড়া বধ্যভূমি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বধ্যভূমি।

এ শহরের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে- ১ মোহিনী মিল।২। রেনউইক যঞ্জেশ্বর এন্ড কোং।৩। গড়াই বাঁধ।৪। পৌরসভা ভবন।৫। কালেক্টরেট ভবন।৬। নফর শাহের দরগাহ।৭। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের টেগর লজ।৮। কুষ্টিয়া সুগার মিল।৯। ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ।১০। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।১১। বি,আর,বি গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ।১২। একদিল শাহের মাজার, পুরাতন কুষ্টিয়া।১৩। বাবা রেজন শাহ এর মাজার, হাটশ হরিপুর।১৪। কবি আজিজুর রহমান এর মাজার,হাটশ হরিপুর।১৫। পদ্মা গড়াই মহনা ইকো পার্ক।১৬। শাহ্ সুফী মনছুর শাহ এর দায়রা পাক, উদিবাড়ী।১৭। ফকির আতর আলী শাহ্ এর মাজার, মোল্লাতেঘরিয়া।

আরও পড়ুন : ডে ট্রিপ: ঘুরে আসুন ঢাকার বাইরে

কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকার মধ্যে রয়েছে- দৈনিক হাওয়া, আজকের আলো, সূত্রপাত, আন্দোলনের বাজার, বজ্রপাত, দিনকাল, হাওয়া, পূর্বাভাস, মাটির পৃথিবী, আরশিনগর, কুষ্টিয়ার বার্তা, সত্য খবর, বাংলাদেশ বার্তা।

Rent for add

Facebook

for rent