ঢাকা: শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার টোটকা

ব্রেকআপ
প্রিয় মানুষটি কাছে নিজের ভুল স্বীকার করুন। তার কাছে প্রকাশ করুন আপনার ভুলের জন্য আপনি অনুতপ্ত

ব্রেকআপ মানে চলমান রোমান্টিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কষ্ট অসহনীয়। এমন ঘটনায় কেউ কেউ এতটাই মুষড়ে পড়েন, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন যে মনে হয়- শেষ, সব শেষ! জীবনের আর কোনো মানেই নেই! কারও কারও অবস্থা এমন হয় যে, যেতে হয় মানসিক চিকিৎসকের কাছে। দেখা দেয় মনোদৈহিক সংকট। কেউ জীবনাবসানের দিকেও ধাবিত হন। কিন্তু ব্যাপারটা কি আসলেও তাই? বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ কিন্তু এমন বলছেন যে সম্পর্ক ভাঙার বেদনা আপনাকে করে তোলে আরও শক্তিশালী আর সক্ষম একজন পরিপক্ক মানুষ- যার ব্যক্তিত্বটা আগের চেয়ে বদলে যায় ইতিবাচকভাবে- অনেক ক্ষেত্রেই একটি ব্রেকআপ আপনাকে বানিয়ে দিতে পারে ‘শিশু থেকে শিক্ষক’!

দেখে নিন ভাঙা সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার উপায়গুলো-
প্রিয় মানুষটি কাছে নিজের ভুল স্বীকার করুন। তার কাছে প্রকাশ করুন আপনার ভুলের জন্য আপনি অনুতপ্ত । এটা আপনার ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগাতে বেশ ইতিবাচক হবে । এমনকি আপনার নমনীয়তা তাকেও অনুতপ্ত হতে বাধ্য করবে । তাই ব্রেকআপ কাটিয়ে উঠতে এটা একটা দারুণ টনিক হতে পারে।

তাকে মত প্রকাশের সুযোগ দিন । তাহলে সে বুঝবে আপনি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন । এই সুযোগে তার সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করুন। নিজেদের মধ্যে কথা বলুন । আর তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন । তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন আপনি তার পাশে রয়েছেন । যে কোনো পরিস্থিতিতে থাকবেনও । মনে রাখতে হবে একটি ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে আরোচনার বিকল্প নেই।

আপনাদের মাঝে ঠিক কী নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো খুঁজে বের করুন । তারপর নিজের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করুন । নিজের সমস্যাগুলো বের করতে পারলে তার সমাধানও খুব সহজেই করতে পারবেন । হতে পারে আপনার সমস্যাগুলো খুবই সামান্য । কিন্তু এগুলোই সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সঙ্গীকে বলুন আপনি আপনার সমস্যাগুলো বুঝতে পেরেছেন । এগুলো থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন । দেখবেন আপনার প্রিয় মানুষটি আপনাত সংশোধনের সুযোগ দেবে ।

কালো শাড়িতে মোহনীয় সালমানের হবু ভাবি

আবার এমনো হতে পারে সমস্যা আপনার নয়, সমস্যা তার। সেক্ষেত্রে উত্তেজিত হবেন না। এতে সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে । তাই মাথা ঠাণ্ডা করে আপনাকে একটু বুদ্ধি করে এগোতে হবে । তার সঙ্গে মিশুন। তারপর সম্পর্ক একটু স্বাভাবিক হলে বা তার রাগ কমে এলে তাকে বোঝান | তবে সেটা যেন হয় গল্লের ছলে ৷ গল্পের মাঝেই সে তার ভুলগুলো বুঝতে পারবে ৷ সমাধানও সে নিজেই খুঁজে বের করবে ।

রাগের মাথায় মানুষ অনেক কিছু বলে ফেলে। আপনার প্রিয় মানুষটিও যদি এমন করে থাকে, তাহলে আপনার উচিত হবে না এটা নিয়ে রাগ করে থাকা । রাগের মাথায় বলা কথার জন্য সে হয়তো নিজেই অনুতপ্ত হবে । আপনার উচিত হবে তাকে
সেই সময় দেয়ার । তবেই সে তার ভুলগুলো বুঝতে পারবে । তাই আপনার উচিত হবে না সঙ্গী রাগের মাথায় যা বলেছে সেটা নিয়ে ব্রেকআপের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার।

আপনারা হয়তো অনেক আড্ডা দিয়েছেন, একসঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছেন। তার মধ্যে অনেক মজার মজার ও রোমান্টিক স্মৃতি মনে গেথে আছে। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সেসব স্মৃতি শেয়ার করুন। তাকে মনে করিয়ে দিন নিজেদের কোনো ঘটনা । এতে আপনাদের সম্পর্ক মজবুত হবে। দু’জন দু’জনের মধ্যে নতুন রসায়ন খুঁজে পাবেন । আর এটাই তো একটি সুন্দর সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

এক থেকে ছয় বয়সী শিশুর মৃত্যুর ৪২% পানিতে ডুবে

আপনার কোনো চেষ্টাই যদি কাজে না লাগে, তাহলেও হতাশ হবেন না বা হাল ছাড়বেন না। কিছুদিনের জন্য তার থেকে দূরে থাকুন। যোগাযোগ বন্ধ করে দিন। তাহলে সে যখন একা থাকবে, তখন আপনাকে অনুভব করবে । তার একাকীত্ব আপনার প্রয়োজনটা তাকে অনুভব করাতে বাধ্য করবে। দূরত্বই পারবে আপনাকে তার কাছে নিয়ে যেতে। ফোনে বা ফেসবুকে এসএমএস দেবেন না। এতে সে আরো বিরক্ত হতে পারে । তাই সম্ভব হলে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন । সরাসরি কথা বললে অনেক কঠিন বিষয়ের সমাধানও সহজ হয়ে যায়। তাছাড়া সামনে থেকে কথা বললে পুরনো সেটাই ফিরে আসতে পারে । এ কারণে সামনাসামনি কথা বলাটা পুরোনো সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার ভালো টোটকা হতেও পারে ।

প্রিয় মানুষটির কাছে আপনি আগের মতো করে | নিজেকে উপস্থাপন করুন। তাকে বুঝিয়ে দিন আপনি আগের মতো হয়ে গেছেন । পুরনো সমস্যার প্রসঙ্গগুলো এড়িয়ে যান। এগুলো নিয়ে তর্কে জড়ানোর দরকার নেই । তাহলে হয়তো সমস্যার
সমাধানের পরিবর্তে উল্টো নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে।

তার সামনে আবেগ দেখাতে যাবেন না। যতদূর সম্ভব আবেগ এড়িয়ে চলুন। তাকে বোঝান তার সঙ্গে দেখা করে আপনি খুশি। তবে অতিরিক্ত আবেগ দেখাবেন না। তাহলে আপনার ব্যক্তিত্ব তার কাছে গুরুত্ব পাবে। তার সঙ্গে দেখা করে তার খোজ নিন। কিন্তু অবশ্যই আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে।

Rent for add

Facebook

for rent