ঢাকা: বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

ফলমূল বেশি দিন তাজা রাখার নতুন প্রযুক্তি

কৃষিপণ্যের আয়ু
অ্যাপিল এমন এক তরল আস্তরণ, যা শুকিয়ে ভোজ্য স্তর হয়ে ওঠে৷ এই স্তর যে কোনো তাজা পণ্যকে চার গুণ পর্যন্ত বেশি টেকসই করে তোলে

হয় খেতে অথবা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেবার সময় ফলমূল ও তরিতরকারি পচে যায়৷ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও-র সূত্র অনুযায়ী গোটা বিশ্বে ফসলের প্রায় ১৪ শতাংশ খাদ্য বাজারে বা খুচরা বিক্রেতার হাতে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়৷

‘অ্যাপিল সায়েন্সেস’ নামের ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক এক কোম্পানি এমন পরিস্থিতি বদলাতে সম্ভবত সাহায্য করতে পারে৷ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা জেমস রজার্স ও তাঁর সহকর্মীরা এমন তরল পদার্থ তৈরি করেছেন, যা ফলমূল ও তরিতরকারি আরও বেশিদিন তাজা রাখতে পারে৷ জেমস বলেন, ‘‘অ্যাপিল শব্দটা অনেকটা ‘পিল’ বা খোসা ছাড়ানোর মতো৷ তাজা পণ্যের উপর আমরা সেটি প্রয়োগ করি৷ সেটা দেখা যায় না, তার স্বাদ পাওয়া যায় না৷ তবে ফল পাকার প্রক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়৷’’

এমনকি রেফ্রিজারেশন ছাড়াও এই প্রক্রিয়া কাজ করে৷ অ্যাপিল এমন এক তরল আস্তরণ, যা শুকিয়ে ভোজ্য স্তর হয়ে ওঠে৷ এই স্তর যে কোনো তাজা পণ্যকে চার গুণ পর্যন্ত বেশি টেকসই করে তোলে৷ ফলে পরিবহণ, মজুত ও খাওয়ার জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যায়৷

আরও পড়ুন
ডিলারশিপ ব্যবসার প্রাথমিক পাঠ

লিপিড এবং ফলমূল ও শাকসবজির প্রাকৃতিক যৌগিক পদার্থের উপর ভিত্তি করেই অ্যাপিল তৈরি করা হয়েছে৷ সেই সব পদার্থ নিঃসরণ করে প্রয়োজনীয় দ্রবণ তৈরি করা হয়েছে৷ এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেমস রজার্স বলেন, ‘‘সঠিক অনুপাতে সেগুলির মেলবন্ধন ঘটালে শুকানোর পর আমাদের হাতে ফল পাকার প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ চলে আসে৷ অর্থাৎ পানি নির্গমন ও অক্সিজেনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়৷ বিভিন্ন ধরনের তাজা পণ্যের জন্য সঠিক ফর্মুলা স্থির করার নতুন কৌশল আমরা শেখাচ্ছি৷ লেবু, শসা বা অ্যাভোকাডোর উপর যে সুরক্ষা স্তর থাকে, সে রকমই কবচের ব্যবস্থা করছি৷’’

নেদারল্যান্ডসের পাইকারি কোম্পানি ‘নেচার্স প্রাইড’ বছরে প্রায় এক লাখ বিশ হাজার টন ফলমূল ও শাকসবজি বিক্রি করে৷ ল্যাটিন অ্যামেরিকাসহ ৫৯টি দেশ থেকে সেগুলি আমদানি করা হয়৷ বাছাই, মোড়কবন্দি ও খুচরা বিক্রেতার কাছে পাঠানোর আগে আমদানি করা কৃষপণ্য রটারডাম শহরে পাকতে থাকে৷ এই শিল্পখাতে পণ্য নষ্ট হওয়া সাধারণ সমস্যা৷ কিন্তু এই কোম্পানি ভবিষ্যতে লোকসানের মাত্রা কমানোর আশা করছে৷ কোম্পানির প্রতিনিধি আড্রিয়েলে ডানকিয়ার বলেন, ‘‘কোনো ভোক্তা খাদ্য ফেলে দিলে মনে রাখতে হবে, যে সেই ব্যক্তি সেটি কিনেও ব্যবহার করেন নি৷ সেই খাদ্যের অর্থমূল্য রয়েছে৷ অর্থাৎ গোটা শৃঙ্খলের মধ্যে কোনো কিছু ফেলে দেওয়া না হলে ভুল করে আপনি সেই পণ্য কিনবেন না৷ অ্যাপিল ব্যবহার করে আমরা খুচরা ব্যবসায়ীদের পর্যায় খাদ্যের অপচয় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনতে পারি৷’’

এখনো পর্যন্ত প্রধানত বড় কোম্পানিগুলিই নতুন এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করছে৷ ছোট প্রতিষ্ঠানগুলির সেই সামর্থ্য নেই৷ কিন্তু অ্যাপিল ব্যবসার নতুন এক মডেলের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি বদলাতে চাইছে৷

এর আওতায় প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তুলতে খুচরা ব্যবসায়ী ও সুপারমার্কেটগুলি ছোট আকারের কৃষি উৎপাদনকারী ও চাষিদের অর্থের জোগান দেবে৷ বিনিময়ে তারা আরও টেকসই কৃষিপণ্য পাবে৷ যে সব জায়গার চাষিরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পান নি, তাঁরাও উপকৃত হবেন৷ জেমস রজার্স মনে করিয়ে দেন, ‘‘অ্যাপিলের মাধ্যমে পরিবহণের ব্যয় কমিয়ে মান বাড়ানোর সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে৷ এটা কোনো সহায়তা নয়৷ ছোট আকারের উৎপাদনকারী তাঁর কৃষিপণ্যের মূল্যের কিছু অংশ হাতে পাচ্ছেন৷’’

আরও পড়ুন
সহপাঠীরা প্রায়ই হাসি-ঠাট্টা করতেই বাইডেনকে নিয়ে

কৃষিপণ্যের আয়ু বাড়ালে কিছু সুবিধা অবশ্যই পাওয়া যাবে৷ কিন্তু খাদ্যের ক্ষতি ও অপচয়ের সমস্যা দূর হবে না৷ সেটা করতে হলে পরিবহণ ও রেফ্রিজারেশন প্রণালীর উন্নতি ও সম্প্রসারণের প্রয়োজন হবে৷ সেইসঙ্গে ভোক্তাদেরও খাদ্যের অপচয় বন্ধ করতে হবে৷ যেটুকু খাওয়া হবে, সেটুকুই কিনতে হবে৷

Rent for add

Facebook

for rent