ঢাকা: শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

আজব দুনিয়ার আজব কারবার : বিজ্ঞানের ভাষায় ব্যাখ্যা যেমন

সেদ্ধ করার পর মুরগির ডিমের সব প্রোটিন একত্রিত হয়ে কুসুমের ওপর সাদা আস্তরণের সৃষ্টি করে

কত কিছুই আছে শুনতে কত আজব, কিন্তু দেখা যায় বিজ্ঞানের কাছে তা অতিসরল এক গল্প। শুনে মনে হতে পারে অবিশ্বাস্য, অথচ বিজ্ঞানের কাছে তা চিরায়ত এক রীতি। এরকই কিছু বিষয়ে নিয়ে লাইভ অন বাংলার এবারের আয়োজন।

সেদ্ধ ডিম ফের কাঁচা ডিম
মানুষের পক্ষে কত কিছু যে সম্ভব তা মানুষের নিজেরই জানা নেই। যেমন ধরুন আপনাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় একটি সেদ্ধ ডিমকে কি আবার আগের অবস্থায় নেয়া সম্ভব? সাধারণ চিন্তায় আপনার মনে হবে সেটা আবার কিভাবে সম্ভব? তবে শুনলে অবাক হবেন আপাত এই অসম্ভবই কিন্তু বিজ্ঞােনে সম্ভব। শুধু সম্ভবই নয় ইতোমধ্যে সেটা আয়ত্তও করে ফেলেছে মানুষ। বেশ কয়েক বছর ধরেই এ বিষয়ে গবেষণা চলছিল এবং শেষ পর্যন্ত সাফল্যও এসেছে এ বিষয়ে।

কী ভাবে এটা সম্ভব? সেদ্ধ করার পর মুরগির ডিমের সব প্রোটিন একত্রিত হয়ে কুসুমের ওপর সাদা আস্তরণের সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়ার ফলে সকলের ধারণা ছিল, সেদ্ধ ডিমকে কোনও ভাবেই আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব নয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা নিরলস প্রচেষ্টায় একটি উচ্চপ্রযুক্তির মেশিন তৈরি করেছেন। ‘ভর্টেক্স ফ্লুইড ডিভাইস’ নামক ওই মেশিনের সাহায্যে সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ থেকে সমস্ত প্রোটিনকে আলাদা করা যাচ্ছে। এবং সেদ্ধ ডিম একেবারে আগের অবস্থা অর্থাত্ কাঁচা অবস্থায় রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। এরপর ডিমটিকে পুনরায় সেদ্ধ করা কিংবা ভাজি করা যাবে।

নিশ্বাস বন্ধ করে ৯ মিনিট
শ্বাস না নিয়ে কখনও থাকার চেষ্টা করেছেন। আমাদের উপদেশ কখনও করবেনও না। তবে জেনে রাখতে পারেন শ্বাস না নিয়ে আসলে কতক্ষণ মানুষ থাকতে পারে। সাধারণ জ্ঞান থেকেই তো বুঝতে পারছেন মানুষভেদে ৩০, ৪০, ৫০ সেকেন্ড হয়তো নিশ্বাস না নিয়ে অনায়াসে কাটিয়ে দেয়া যাবে। তবে খেলা শুরু হয় এরপর।

বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, রেকর্ডধারী মুক্ত ডুবুরি বা ফ্রি ডাইভার হার্বার্ট নিশ একটানা নয় মিনিটের জন্য তাঁর শ্বাস ধরে রাখতে পারেন। তার রেকর্ড ডাইভটি ২৫৩ মিটারের চেয়েও গভীর ছিল, উদাহরণস্বরূপ, ইংলিশ চ্যানেলের চাইতেও গভীরে গিয়েছিলেন তিনি।

বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে, তিনি তার ফুসফুসের ক্ষমতা ১৪ লিটার পর্যন্ত বাড়িয়েছেন বলে জানা গেছে – যেখানে একজন সাধারণ মানুষের ফুসফুসের ক্ষমতা গড়ে ছয় লিটার থাকে।

আরও পড়ুন
ফ্ল্যাট কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

স্থির জিনিস দেখতে না পাওয়ার অন্ধত্ব
সুস্থ থাকাটা একটা মানুষের জন্য কতটা জরুরি তা অসুস্থ হলেই বোঝা যায়। আবার অসুস্থতারও যে কত ভিন্ন ভিন্ন ধরন রয়েছে তারও ইয়ত্তা নেই। সেরকমই অদ্ভূত এক রোগ হলো রিডক সিন্ড্রোম। এটি মূলত এক ধরনের অন্ধত্ব। তাবে মোটাদাগে সাধারণ অন্ধ মানুষের চেয়ে এ রোগে আক্রান্ত অন্ধের পার্থক্য আছে। তা হলো এই রোগে আক্রান্ত অন্ধ ব্যক্তি শুধুমাত্র স্থির জিনিসই দেখতে পান না। অর্থাৎ যেকোনো কিছু যদি নড়াচড়া করে তবে সেটা তিনি দেখতে পাবেন, কিন্তু বস্তুটি যদি স্থির থাকে তবে তিনি তা দেখতে পাবেন না।

আরও সহজ করে বলতে গেলে গরম কফি কাপ থেকে উঠা ধোয়া এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি দেখতে পাবেন, কিন্তু স্থির কফির কাপটি তিনি দেখতে পাবেন না।

এটি Statokinetic dissociation নামেও পরিচিত, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি গতিশীল বস্তু ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না। মস্তিষ্কের যে অংশটি আমাদের দর্শনকে নিয়ন্ত্রণ করে সেই অংশে অর্থাৎ অপটিক্যাল লোবে ক্ষতের ফলেই এমন ঘটনা ঘটে। ‘অ্যাকিন্টপসিয়া’ নামে এর ঠিক বিপরীত একটি অবস্থা রয়েছে যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি শুধু স্থির বস্তু দেখতে পায়, কোনো গতিশীল বস্তু দেখতে পায় না।

বৃষ্টির ঘ্রাণ কেন ভালো লাগে আমাদের?
দীর্ঘ সময় শুষ্ক আবহাওয়ার পর বৃষ্টির পরমূহুর্তে সৃষ্ট ঘ্রাণ বিভিন্ন কারণে মানুষের স্নায়ুতে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে।এই ভালো লাগার পেছনে রাসায়নিক বিক্রিয়াঘটিত বেশকিছু কারণ রয়েছে। ব্যাকটেরিয়া, গাছপালা বা বিদ্যুত চমকানো – সবকিছুই বৃষ্টির সময়কার ভেজা মাটি ও নির্মল বাতাসের মনোরম সৌরভের অনুভূতি তৈরী করার পেছনে ভূমিকা রাখে।

ইংরেজিতে ‘পেট্রিকোর’ নামের এই সুঘ্রাণের উৎসের সন্ধানে বহুদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন বৈজ্ঞানিকরা।

বৃষ্টি যখন প্রথম শুষ্ক মাটি স্পর্শ করে তখন আমরা যে উষ্ণ, সোঁদা গন্ধ পাই তা ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয় বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। আপনি যখন মাটির সোঁদা গন্ধ পান তখন আসলে বিশেষ একধরণের ব্যাকটেরিয়ার তৈরী করা অণু গন্ধ পান আপনি। জিওসমিন নামের ওই অণু স্ট্রেপটোমাইস দিয়ে তৈরি হয়, যা সাধারণত উর্বর মাটিতে উপস্থিত থাকে।

বৃষ্টির পানির ফোঁটা মাটি স্পর্শ করলে মাটিতে উপস্থিত জিওসমিন বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির পর আরো অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে সুগন্ধি তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে জিওসমিনের ব্যবহার বাড়ছে।

আরও পড়ুন
নারীর হার্ট অ্যাটাকের ৭ লক্ষণ

এছাড়া জিওসমিন তারপিনের সাথেও সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক গাছে উদ্ধৃত সুঘ্রাণের উৎস তারপিন। বৃষ্টির কারণে এসব সুবাস প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত শুষ্কতার ফলে গাছের অভ্যন্তরীন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার গতি ধীর হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় গাছ নতুন সজীবতা পায় এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে সুঘ্রাণ ছড়ায়।

বৃষ্টির সময় সুঘ্রাণ তৈরির পেছনে বজ্রপাতেরও ভূমিকা রয়েছে। বিদ্যুত চমকানোর কারণে বায়ুমণ্ডলে বৈদ্যুতিক আবেশ তৈরি হওয়ায় প্রকৃতিতে ওজোন গ্যাসের একধরনের গন্ধ প্রতীয়মান হয়। বিদ্যুৎ চমকানোর পাশাপাশি ঝড় এবং বিশেষত বৃষ্টির কারণে বাতাস পরিষ্কার হয়। যার ফলে বৃষ্টি পরবর্তী সুঘ্রাণও সহজে ছড়িয়ে পড়ে।

ল্যান্ডিংয়ের সময় বিমানের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয় কেন?
বিমান মাটি ছোঁয়ার আগে হঠাত্‍ নিভিয়ে দেওয়া হয় বিমানের ভেতরের সব আলো। বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা থাকলে এটা তো আপনি খেয়ালই করেছেন। কিন্তু কেন এমনটা করা হয় জানেন কি! অনেকেই বলেন, নামার আগে চট করে যাত্রীদের এক ধরনের সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্যই নাকি এমন কাজ করা হয়। কিন্তু আসল কারণ মোটেও এটা নয়।

আসলে অন্ধকারের সঙ্গে যাত্রীদের চোখ মানিয়ে নিতেই এ পদ্ধতি মেনে চলা হয়। বিমান দুর্ঘটনা বেশিরভাগ সময়ই ঘটে হয় প্লেনের ওঠা বা নামার সময়। তাই আগাম দুর্ঘটনার সঙ্গে প্রস্তুত হতেই ল্যান্ডিংয়ের সময় বিমানের ভিতরের সব আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বড়সড় কোনো ঘটনা ঘটলে অন্ধকারের মধ্যে বেরিয়ে আসতে পারেন যাত্রীরা। কারণ দুর্ঘটনার মত পরিস্থিতি তৈরি হলে সবার আগে আলো নিভে যায়। সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে এমনটা করা হয়। যাতে হঠাত্‍ অন্ধকার হয়ে গেলে যাত্রীদের চোখধাঁধিয়ে না যায়। এক্ষেত্রে একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন আপনাকে একটা অচেনা ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। তারপরই ঘরের লাইট নিভিয়ে দেওয়া হলে আপনার অবস্থাটা কী ঘটবে? আপনি হাতড়াতে শুরু করবেন। এরপর হাতড়িয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবেন। তাতে ব্যর্থ হওয়ার হারই বেশি। তাই বিমান অবতরণের আগে ভিতরের আলো নিভিয়ে দিয়ে যাত্রীদের চোখ সেট করিয়ে নেওয়া হয়।

সাবানের ফেনা সব সময় সাদা হয় কেন
বিভিন্ন সাবানের গন্ধ ও বর্ণ আলাদা আলাদা। কিন্তু একটা জিনিস এক। সেটা হলো ফেনা! তা সব সময়ই সাদা। কখনও ভেবে দেখেছেন কেন এমন হয়।

এর পেছনে রয়েছে এক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। তার আগে জেনে নেওয়া যাক সাবানে ফেনা হয় কেন। আসলে সাবানে থাকা সোডিয়াম স্টিয়ারেট অথবা পটাশিয়াম স্টিয়ারেটের কারণেই তৈরি হয় সাবানের ফেনা। কিন্তু সেই ফেনার রং সব সময়ই সাদা হয় কেন, যেখানে তাদের রং হয় নানা রকমের- গোলাপি, সাদা, লাল, নীল!

আসলে সাবান যখন গলে যায় তখন জল, বাতাস আর সাবানের মিশ্রণে তৈরি হয় বুদবুদ। সাবানের ফেনা হল ছোট ছোট বুদবুদের সমষ্টি।

ফেনার মধ্যে যখন আলো প্রবেশ করে তখন তা ফেনার মধ্যে দিয়ে গিয়ে নানা দিকে প্রতিফলিত হতে থাকে। তাই সাবানের ফেনাকে স্বচ্ছ লাগে। আসলে আলো এত দ্রুত যায় যে তা সব রংয়েই ভেঙে যায়। কোনও বস্তুর ক্ষেত্রে এমন হলে তার রং হয় সাদা। আর সেই কারণেই সাবানের ফেনা সাদা।

কেন কিছু মানুষ স্বপ্ন ভুলে যায়?
কেউ কেউ স্বপ্ন মনে রাখতে পারে। কারও কারও আবার স্বপ্ন দেখার বিষয়টি মনে থাকলেও, কী দেখেছে তা আর মাথায় থাকে না। বিজ্ঞানীদের কাছে অবশ্য এর ব্যাখ্যা আছে। তারা বলছেন, কিছু মানুষ স্বপ্নের বিষয়বস্তু মনে রাখতে পারেন না। এর কারণ লুকিয়ে আছে তাদের ঘুমানোর পদ্ধতি এবং শরীরের কিছু রাসায়নিক পদার্থের কর্মপ্রক্রিয়ায়।

যখন আমরা ঘুমাই, তখন আমাদের মস্তিষ্ক চারটি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। চূড়ান্ত পর্যায়টির নাম হলো র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট বা আরইএম। এই পর্যায়ে ঘুমের সময় একজন ব্যক্তির চোখের পাতা দ্রুত কাঁপতে থাকে। এ সময় হৃদপিণ্ডের গতি ধীর হয় আসে এবং মানুষের শরীর আটোনিয়া নামের একটি অবস্থায় চলে যায়। এ সময় মানবদেহ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চলে যায় এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করা যায় না।

ঠিক এই পরিস্থিতিতে স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে মানব মস্তিষ্কের দুটি রাসায়নিক পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হলো—এসিটোকোলিন ও নোরাপিনাফ্রিন। এসিটোকোলিনের উৎপাদন যত বাড়ে, মস্তিষ্কের কর্মতৎপরতা তত বেড়ে যায়। স্বপ্নের বিষয়বস্তু একজনের কাছে কতটা স্পষ্ট হবে, সেটি নিয়ন্ত্রণ করে এসিটোকোলিন। আবার নোরাপিনাফ্রিন সতর্কতা ও মানসিক চাপের মাত্রা নির্ধারণ করে। এসিটোকোলিনের উৎপাদন যত বাড়ে, নোরাপিনাফ্রিনের পরিমাণ কমতে থাকে। নোরাপিনাফ্রিনের পরিমাণ কমতে থাকলে আমাদের স্বপ্নগুলো মনে রাখার সক্ষমতাও কমতে থাকে।

যখন আমরা হুট করে ঘুমিয়ে পড়ি বা অ্যালার্মের শব্দে লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠি, তখন এই দুই রাসায়নিকের পরিমাণ সামান্য পরিমাণে বেড়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের স্বপ্ন মনে রাখার সম্ভাবনা আরও কমে যায়। আবার অনেক সময় আমাদের মস্তিষ্ক সেই সব স্বপ্নই মনে রাখে না, যেগুলো যথেষ্ট উত্তেজনাকর নয়।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের স্লিপ রিসার্চার রবার্ট স্টিকগোল্ড বিবিসিকে বলেন, ‘যখন আমরা প্রথমবার ঘুম থেকে উঠি, তখন স্বপ্নগুলো অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় থাকে। এই পরিস্থিতি কেন সৃষ্টি হয়, তার সঠিক ব্যাখ্যা এখনো জানা যায়নি। যদি কেউ লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে দিনের কাজ শুরু করে দেন, তবে তার পক্ষে স্বপ্ন মনে রাখা সম্ভব হবে না। ছুটির দিনের প্রশান্তির ঘুমই স্বপ্ন মনে রাখার উৎকৃষ্ট উপায়।’

সত্য বলার ওষুধ
এমন কি কোনো ওষুধ আছে যেটা খেলে মানুষ সব সত্য বলা শুরু করবে। এর জবাব এক কথায় হ্যাঁ-ও না, আবার না-ও না। কারণ একটা ওষুধ আছে যেটা খেলে মানুষ সত্য বলতে পারে, তবে শুনতে আসলে যেমন লাগছে এর কর্মপ্রক্রিয়াটা ঠিক তেমন নয়। একটু ভিন্নভাবে কাজ করে এটা। দেখে নেয়া যাক ব্যাপারটা আসলে কী।

যে সকল রাসায়নিক পদার্থ মানবদেহে প্রয়োগ করলে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা কমে যায় এবং মানুষ মস্তিস্কে জমা থাকা পূর্বস্মৃতি থেকে সকল সত্য তথ্য বিবেচনা না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে ফেলে তাকে ট্রুথ সিরাম বলে। এটি টি এক ধরনের কৃত্রিম হ্যালোসিলনেশন তৈরি করে।

ট্রুথ সিরাম মানবদেহে ইনজেকশনের মাধ্যমে সরাসরি রক্তে প্রবেশ করানো হয় অথবা ট্যাবলেট হিসেবে মুখে বা পায়ুপথে ব্যবহার করা হয়। Truth Serum রক্তে প্রবেশ করার পর প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে স্পাইনাল কর্ডে প্রবেশ করে। স্পাইনাল কর্ড থেকে ঔষধ মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল কর্টেক্সে প্রবেশ করে। মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অংশগুলো Truth Serum এর প্রভাবে প্রভাবিত হয় এর ফলে একই সাথে একাধিক সংকেত মস্তিষ্কে প্রেরিত হলে Truth Serum এর প্রভাবে শুধু একটি সংকেত বিশ্লেষিত হয়। বাঁকি সংকেতগুলো উপেক্ষিত থাকে।Truth Serum এর প্রভাবে হেলুসিনেশন তৈরি হয়।

Rent for add

Facebook

for rent