ঢাকা: শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

ফ্ল্যাট কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

dhaka flat
বুকিং দেয়ার আগেই প্রজেক্ট দেখে নিন। ডেভেলপার আইনানুগ নিবন্ধিত কিনা তা যাচাই করে নিন।

নিজের ঘর। মাথা গোঁজার ঠাঁই। তার জন্যই জীবনের সব সঞ্চয় উজাড় করে দেয় মধ্যবিত্ত। ছোট একটা ফ্ল্যাটই স্বপ্ন এখন ঢাকা শহরের বহু ঘরে। সেই আশ্রয়ের খোঁজে গিয়েই অসাধু চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারাতে হয় অনেককেই।

এ ছাড়াও ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে রয়েছে নানা ঝক্কি-ঝামেলা। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা হয় তা হলো ফ্ল্যাট নির্ধারিত সময়ে বুঝিয়ে না দেয়া। তাই ফ্ল্যাট কেনার আগে একটু সতর্ক থাকা খুবই জরুরি। আর সতর্কতার পরও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যদি কেউ পড়েই যান তার জন্য রয়েছে রিয়েলে এস্টেট উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা আইন।

প্রথমেই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে জায়গায় কোন ভেজাল বা মালিকানাতে কোন সমস্যা আছে কিনা এ বিষয়ে। এছাড়া আপনি মূল মালিকের সঙ্গে লেনদেন করছেন কিনা তাও। একটু সচেতন থাকলে সেগুলো খুব সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

বুকিং দেয়ার আগেই প্রজেক্ট দেখে নিন। ডেভেলপার আইনানুগ নিবন্ধিত কিনা তা যাচাই করে নিন। তাদের আগের কোনো অভিজ্ঞতা আছে কিনা, কিংবা কোনো বদনাম আছে কিনা তা-ও দেখুন। অতীতে তারা কাউকে ঠকিয়েছে কিনা তাও দেখুন।

যে প্রতিষ্ঠানের বা ব্যক্তির ফ্ল্যাটটি কিনতে যাচ্ছেন তার মালিকানা আছে কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। এ জন্য প্রস্তাবিত ফ্ল্যাটটি যে জমিতে অবস্থিত, তার সর্বশেষ রেকর্ডে বিক্রয়কারীর নাম উল্লেখ আছে কি না এবং সিএস, আরএসসহ অন্যান্য খতিয়ানের ক্রম মিলিয়ে দেখতে হবে। আর রিয়েল এস্টেট কোম্পানিটির যথাযথ নিবন্ধন আছে কি না এবং রিহ্যাবের সদস্য কি না জেনে নিতে হবে। জমিটি যদি ডেভেলপার কোম্পানি কোনো মালিকের কাছ থেকে নিয়ে থাকে, তাহলে এ সম্পর্কে চুক্তিপত্র আছে কি না যাচাই করতে হবে।

আরও পড়ুন
ডিলারশিপ ব্যবসার প্রাথমিক পাঠ

পছন্দের লোকেশন বা স্থানের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। যে এলাকায় ফ্ল্যাট কিনতে চাচ্ছেন তার থেকে আপনার অফিস বা ব্যবসায়ের দূরত্ব যাচাই করে নিন। এছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার (বাস/ট্রেন স্টেশন) সুবিধা, নাগরিক সুবিধার (হাসপাতাল, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, পার্ক, খেলার মাঠ) সহজলভ্যতা রয়েছে কিনা তাও দেখে নেওয়া উচিত। যে লোকালয়ে ফ্ল্যাটটি নিতে যাচ্ছেন সেখানকার নিরাপত্তা সম্পর্কেও নিশ্চিত হতে হবে। আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও দূষণ মুক্ততাও বিবেচনায় রাখা উচিত। আর বাজেটের কথা মাথায় রেখেই স্থান নির্বাচন করুন।

জমির দলিল সঠিক কি না, তা ভালো করে যাচাই করে নিতে হবে। যে কোম্পানির কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনছেন সেই প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন আছে কি না, রাজউক কর্তৃক অনুমোদিত প্ল্যান আছে কি না, কোম্পানিটি রিহ্যাবের সদস্য কি না—তা জেনে নিতে হবে।

যে জমিতে ফ্ল্যাটটি নির্মাণ করা হচ্ছে জমিটির নামজারি ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। বিক্রয়কারী ওয়ারিশসূত্রে জমির মালিক হয়ে থাকলে বণ্টনের মোকদ্দমা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

জমি কোনও জাতীয় সড়ক কিংবা বাইপাস সংলগ্ন হলে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে জেনে নিতে হবে যে, তা কেনা-বেচা অথবা সেখানে নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা আছে কি না। ওই জমিতে সরকারের রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা আছে কি না, জেনে রাখুন সে কথাও।

প্রথমবার যারা ফ্ল্যাট কিনছেন তাদের জন্যে একটি বিষয় দেখে নেওয়া জরুরি, তা হলো- ফ্ল্যাটটি এমন কিনা যা আধুনিক সব চাহিদা মেটাবে। তাই আগে থেকেই নিশ্চিত করে নেবেন এটা মডার্ন স্টার্টার ফ্ল্যাট কিনা।

ডাউন পেমেন্টে আগে যেসব দিকে নজর রাখতে হবে- জমির দলিল ঠিক আছে কি-না তা যাচাই করে নিন, ডেভলপার কোম্পানরি সরকারি অনুমোদন আছে কি-না তা যাচাই করুন, রাজউক কর্তৃক অনুমোদিত প্ল্যানের কপি আছে কিনা, ডেভলপার কোম্পানি রিহ্যাবের সদস্য কিনা, ফ্ল্যাট বরাদ্দের নির্ধারিত সময়।

যদি গৃহ ঋণ বা ইন্সটলমেন্টে নিতে চান, তবে ভালো করে যাচাই করুন সুদের হার। দরকারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। সুদের হারে ফাঁকফোকর রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে দামের অনেক তারতম্য রয়েছে। সবদিক ভালভাবে খতিয়ে নিন।

জমির মালিকের সাথে ডেভেলপারের চুক্তিপত্র ও আমমোক্তারনামাটি দেখে নিন। কি কি মালামাল দেওয়া হবে তা বিশ্লেষণ করে দেখুন। ফিটিংস কি উন্নতমানের নাকি মানসম্পন্ন তা দেখে নিন। এতে একটা বড় ধরনের শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। মান সম্পন্ন যে টাইলস ১০০/-টাকায় পাওয়া যায়, উন্নতমানের সেই টাইলস এর দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

আরও পড়ুন
সহপাঠীরা প্রায়ই হাসি-ঠাট্টা করতেই বাইডেনকে নিয়ে

বিক্রয়ের জন্য প্রস্তাবিত ফ্ল্যাটটি সরেজমিনে নকশার সঙ্গে বাস্তব অবস্থা মিলিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী ভূমিমালিকদের কাছ থেকে দাগ-খতিয়ান জেনে মেলাতে হবে। অবশ্যই স্পষ্ট করে সব শর্ত উল্লেখ করে আইনগত উপায়ে চুক্তি সম্পাদন করে একটি কপি নিজের কাছে রাখতে হবে।

পরিবারের সদস্য সংখ্যা, ফার্নিচারের বিন্যাস ও রুচিবোধ বুঝে ফ্ল্যাট আকার নির্বাচন করা উচিত। ভবনের কততম তলায় কিনতে যাচ্ছেন সেটাও মাথায় রাখা দরকার। পছন্দের ফ্ল্যাটটি যদি হয় একদম উপরের তলায়, তাহলে গ্রীষ্মের তাপে কষ্ট পেতে পারেন। তবে অনুমতি সাপেক্ষে ছাদটিকে সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন। পছন্দে যদি থাকে দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট, সেক্ষেত্রে ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টি ভালোভাবে দেখে নিন। এছাড়াও প্রত্যেক তলায় কয়টি করে ফ্ল্যাট আছে সেটিও বিবেচনা করে দেখা দরকার। প্রতি তলায় একটি করে ফ্ল্যাট থাকলে সিঁড়ি ও লবির অংশটুকু নিজের মতো করে সাজিয়ে রাখা সম্ভব।

ভবন নির্মাণে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হবে তা চুক্তিতে উল্লেখ থাকতে হবে। ফ্ল্যাটের অনুমোদিত নকশাও আবাসন নির্মাতা ক্রেতাকে দেখাতে এবং তা দিতে বাধ্য থাকবেন। আপনি কোন ফ্ল্যাটটি কিনছেন তা চুক্তিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করুন।

কোনো প্রকার মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ফ্ল্যাটটি না কিনে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেনা ভালো। যদি কিস্তির মাধ্যমে কেনার কথা থাকে, তাহলে কয় কিস্তি এবং হস্তান্তর কবে হবে, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট করে চুক্তিনামায় লেখা থাকতে হবে। যদি কোনো কারণে না কেনা যায়, তাহলে এটি কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা-ও স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।

ভিত/পাইলিং নিয়ম মেনে করা হচ্ছে কি না। ভূমিকম্প রোধক ব্যবস্থা আছে কি না। বিশেষত নদীর ধারে কোনও নির্মাণের জন্য এই বিষয়গুলি আগে যাচাই করা জরুরি। নিজে প্ল্যান দেখে সব সময়ে যে এই বিষয়গুলি বোঝা সম্ভব হয়, এমনটা নয়। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

দেখে নিতে হবে যেখানে থাকছেন তার প্রতিবেশীরা কেমন। বর্তমান ও ভবিষ্যত চাহিদা পূরণ করতে পারছে কিনা ফ্ল্যাট ও এর চারপাশের পরিবেশ। সন্তান থাকলে তারা যে স্কুলে পড়বে বা যেখানে থাকবেন, তার আশপাশে ভালো স্কুল আছে কিনা ইত্যাদি খুব জরুরি বিষয়।

এসব ছাড়াও আরও নানা বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে ভুল না করে আগে সময় বেশি দিন, এতে ভুল থেকে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

Rent for add

Facebook

for rent