ঢাকা: সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

ডিলারশিপ ব্যবসার প্রাথমিক পাঠ

ডিলারশিপ
ডিলারশিপ ব্যবসা হলো কোন একটা কোম্পানির নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা

বাংলাদেশে অনেক প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি আছে ডিলারশিপ নিয়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। যে কেউ চাইলে অল্প পরিমাণে টাকা ইনভেস্ট করেও ডিলারশিপ ব্যবসা শুরু করতে পারেন। দেশব্যাপী পণ্য মার্কেটিং এর স্বার্থে অনেক বড় বড় কোম্পানি নিজেরা ব্যবসা না করে ডিলারশিপ দেয়ার মাধ্যমে ব্যবসা করে থাকে। কারণ, সবাই চাইলে খুব লোকালে গিয়ে ডিলারশিপ না দিয়ে নিজের ব্যবসা পরিচালনা করলে অনেক বেশি পরিচালনা ব্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে। এজন্য সবথেকে সহজ পদ্ধতি স্থানীয়ভাবে ডিলারশিপ নিয়োগ করা। যাতে ডিলারশিপের মাধ্যমে লোকাল এরিয়া কাভারেজ করা যায়।

ডিলারশিপ ব্যবসায় রিস্ক তুলনামূলক কম, লাভ বেশি, ঝামেলাও কম। এ ব্যবসার জন্য প্রয়োজন শুধু মার্কেটিং নলেজ, বিজনেস প্লানিং আর উপস্থিত বুদ্ধি। এ ব্যবসার একেবারে শুরু থেকে দেখে নেয়া যাক। প্রথমেই জেনে নেয়া যাক ডিলারশিপ ব্যবসা কী?

ডিলারশিপ ব্যবসা হলো কোন একটা কোম্পানির নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা। আরও সহজ করে বলতে গেলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্য খুচরা ব্যবসায়ী বা দোকানদারের কাছে বিক্রি করা। খুচরা ব্যবসায়ীরা আপনার কাছ থেকে পণ্য নিয়ে কাস্টমারের কাছে বিক্রি করবে আর আপনি কোম্পানির কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন। আপনি যত বেশি পরিমাণ পণ্য সেল করতে পারবেন তত বেশি লাভ হবে। এই হলো সিস্টেম।

একজন ডিলার শুধুমাত্র একটি কোম্পানির ডিলারশিপ নেন, তা নয়। অনেকে পাঁচটা, দশটা, পনেরোটা কোম্পানির ডিলারশিপ নিয়ে থাকেন। এবার আসা যাক ডিলারশিপ নিতে কী কী লাগবে- একটি ফার্ম বা এজেন্সি, ফার্মের রেজ্রিস্ট্রেশন করতে হবে, ট্রেড লাইসেন্স ব্যাংক একাউন্ট লাগবে। প্রাথমিকভাবে এইগুলো লাগবে।

আরও পড়ুন
বুধ গ্রহ : দিনে আগুন রাতে বরফ

এরপর লাগবে কোম্পানির প্রোফাইল, অর্থাৎ আপনার অফিস কোথায়, কী সাইজের গোডাউন, কতজন কর্মচারী আছে, কোন কোন এরিয়াতে আপনি প্রোডাক্ট সেল করতে পারবেন- এসবের বিস্তারিত তথ্যসহ একটি প্রোফাইল তৈরি করে কোম্পানির কাছে জমা দিতে হবে। এরপর কোম্পানির সাথে চুক্তিপত্র করতে হবে। আপনি কোম্পানির কোন কোন প্রোডাক্ট নেবেন, আপনাকে কত কমিশন দেবে, কিভাবে প্রোডাক্ট পাবেন সমস্ত কিছু চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকবে।

এরপর আপনি সাইন করবেন এবং বিজনেস শুরু করবেন। এবার ইনভেস্টমেন্ট বিষয়ে কিছু কথা। যেকোনো ব্যবসার মতো ডিলারশিপ ব্যবসায়ও কিন্তু ইনভেস্টমেন্ট প্রয়োজন হয়। ইনভেস্টমেন্ট দুই রকমের হয়ে থাকে। এক- সিকিউরিটি মানি। দুই- প্রোডাক্ট কস্ট। সিকিউরিটি মানি হচ্ছে যেকোনো কোম্পানি তাদের কাছে কিছু টাকা ডিপোজিট রাখে। কোনো কোম্পানির সিকিউরিটি মানি কত টাকা তা কোম্পানি অনুযায়ী ভ্যারি করে। যে কোম্পানির ভ্যালু যত বেশি তার তত বেশি সিকিউরিটি মানি লাগে। সিকিউরিটি মানি ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার, ১ লাখ, ৫ লাখ, ১০ লাখ বা আরো বেশি হতে পারে।

এটা কোম্পানির কাছে জমা রাখতে হয়। মনে রাখবেন এই টাকাটা কিন্তু কোম্পানি একেবারে নিয়ে নেয় না। যখন আপনার সাথে কোম্পানির চুক্তি শেষ হয়ে যাবে তখন এই টাকাটা আপনি আবার ফেরত পাবেন।

দ্বিতীয় ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে প্রোডাক্টের প্রাইস অর্থাৎ আপনি যে প্রোডাক্ট নিচ্ছেন সেই মূল্যের একটা অংশ কোম্পানিকে দিতে হবে। ধরেন আপনি এক গাড়ি ড্রিংকস নেবেন। তার যে মূল্য তার অর্ধেক টাকা কোম্পানির কাছে পাঠিয়ে দিতে হবে। এরপর তারা আপনার কাছে পণ্য পাঠিয়ে দেবে।

এবার দেখে নেয়া যাক আপনি কিভাবে ডিলারশিপ নেবেন। আপনি যে কোম্পানি পছন্দ করেন তাদের ওয়েবসাইটে ঢুকে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাবেন। এরপর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এছাড়াও কোম্পানির কোনো লোকাল ব্রাঞ্চ আছে কি না জেনে নেবেন। থাকলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

এই হলো ডিলারশিপ নেয়ার ফরমাল পথ। এ ব্যবসা শুরু করতে চাইলে এভাবে এগিয়ে যেতে পারেন। দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলো এভাবে ডিলারশিপ দিয়ে থাকে। যেমন- ইউনিলিভার, প্রাণ-আরএফএল ইত্যাদি কোম্পানি। কোম্পানির ডিলারশিপ নিতে সেই কোম্পানির ম্যানেজার হোক কিংবা মার্কেটিং অফিসার কারো সাথে কন্টাক্ট করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

আরও পড়ুন
পৃথিবীতে পাথরের বৃষ্টি আজগুবি, দূরের এক গ্রহে নিয়মিত ঘটনা

ডিলারশিপ নেওয়ার সময় অবশ্যই দুটি বিষয় আলোচনা করে নেবেন। ট্রান্সপোর্ট সুবিধা অর্থাৎ কোম্পানি গাড়ি দিয়ে যেন আপনার কাছে পণ্য পাঠিয়ে দেয়। দুই- কোম্পানির নিজস্ব মার্কেটিং অফিসার যেন আপনার প্রাথমিক মার্কেটিং করে দিয়ে যায়। অবশেষে আসি আপনি কোন কোম্পানির ডিলারশিপ নেবেন। অর্থাৎ কোন কোম্পানির ডিলারশিপ নিয়ে আপনি সহজে এগিয়ে যেতে পারবেন। এখানে একটু ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, বাকিটা আপনার সিদ্ধান্ত।

আপনি যদি প্রাথমিকভাবে শুরু করতে চান তাহলে আপনি কনজুমার প্রোডাক্ট নিতে পারেন। এর মধ্যে আছে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত আইটেম। এটির চাহিদা বাজারে সব সময় আছে এবং থাকবে। চাল, ডাল, তেল, জুতা, কসমেটিক্স ইত্যাদি। এরপর দ্বিতীয় পছন্দ হতে পারে মেডিসিন। আমাদের জীবনে মেডিসিন কত প্রয়োজন তা তো আর বলা লাগবে না। এতে কমিশন খুব ভালো। এরপর নিতে পারেন বেভারেজ। সফট ড্রিংকস, পেপসি, কোকাকোলা এগুলোতে ভালো কমিশন পেতে পারেন। এরপর নিতে পারেন ইলেকট্রিক কোম্পানির ডিলারশিপ।

আপনি যে কোম্পানির ডিলারশিপ নেন না কেন, অবশ্যই আগে মার্কেট রিসার্চ করে নেবেন। ভালোভাবে জেনে বুঝে এরপর ডিলারশিপ নেবেন এবং ব্যবসা শুরু করবেন।

Rent for add

Facebook

for rent