ঢাকা: সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

পৃথিবীতে পাথরের বৃষ্টি আজগুবি, দূরের এক গ্রহে নিয়মিত ঘটনা

নক্ষত্র
এমনও ঘটনা কিছু গ্রহে নিয়মিত ঘটে যা পৃথিবীতে একবার ঘটলে পুরো পৃথিবীতে যত সৃষ্টি আছে সব কিছুর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে

পৃথিবীতে যদি পাথরের বৃষ্টি হতো, যদি এমন হতো এ পৃথিবীর কোথাও মাটি নেই, পুরো পৃথিবী জুড়ে শুধু পানি আর পানি। তবে কি সৃষ্টি টিকে থাকতে পারতো এখানে? এসব শুনতে কাল্পনিক মনে হলেও আসলে এগুলো বাস্তব। তবে পৃথিবীতে নয়। অন্য কোথাও। এসবের কোনটাই এই পৃথিবীতে হয় না, কোনো কিছু এই পৃথিবীতে না হওয়ার অর্থ এই নয় যে তা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আর কোথাও হতে পারে না। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে রহস্যের শেষ নেই।

মহাবিশ্বে অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্র রয়েছে। এসব গ্রহ-নক্ষত্রে ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর একেকটি ঘটনা ঘটে যায়। যা মানুষের কল্পনারও বাইরে। এমনও ঘটনা কিছু গ্রহে নিয়মিত ঘটে যা পৃথিবীতে একবার ঘটলে পুরো পৃথিবীতে যত সৃষ্টি আছে সব কিছুর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। এমনই ৫টি গ্রহ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

ওয়াটারওয়ার্ল্ড
মহাবিশ্বে এমন একটি গ্রহ আছে যে গ্রহের পুরোটা জুড়ে কেবলই পানি। এখানে কোথাও কোনো মাটি নেই। পুরো পৃথিবীজুড়েই সমুদ্র। শুধু তাই নয় পৃথিবী সাগর যত গভীর হয় তার চেয়ে অনেক বেশি গভীর ওই গ্রহের সমুদ্র। GJ 1214b নামের গ্রহটি পৃথিবী থেকে ৪২ আলোকবর্ষ দূরে।

এখানকার সমুদ্রগুলো অনেক বেশি গভীর হওয়ার কারণে সেখানে ঘটে অদ্ভূত এক ঘটনা। তা হলো- এ গ্রহের অনেক জায়গায় এমন বরফ রয়েছে যা দেখতে পৃথিবীর বরফের মতো হলেও আসলে তার চরিত্র পৃথিবীর বরফের মতো নয়। ওই গ্রহের বরফ জমাটবদ্ধ পানি ঠিকই, তবে তা ঠান্ডা নয়। পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে এমন বরফ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।

আরও পড়ুন
২০ কোটি মাইল দূরের গ্রহাণুর পাথর নিয়ে পৃথিবীতে ফিরছে নাসার মহাকাশযান

এক মানুষের দুই ছায়া
দিনের আলোতে আমরা সবকিছুর একটা ছায়া দেখতে পাই। পৃথিবীতে আমরা একটি বস্তুর একটিই ছায়া দেখতে পাই।

কারণ আমাদের আলোর উৎস একটিই, তা হলো সূর্য। কিন্তু ওইসব গ্রহের কি যেগুলোতে একাধিক নক্ষত্র রয়েছে। বাইনারি স্টার সিস্টেমে দেখা যায়- নির্দিষ্ট ওই গ্রহ সংশ্লিষ্ট নক্ষত্র দুটির যেকোনো একটিকে কেন্দ্র করে ঘোরে ওই গ্রহ। কিন্তু কেপলার 16b গ্রহটির ক্ষেত্রে ঘটে একটু অন্যরকম এক ঘটনা। এটি দুটি নক্ষত্রের চারপাশেই ঘুরছে। এই গ্রহে দাঁড়ালে আপনি দেখবেন মাটিতে আপনার দুটি ছায়া।

পাথর বৃষ্টির গ্রহ
বৃষ্টির সময় পানি পড়ে পৃথিবীতে। এই পানির জন্যই এখানে জীবন টিকে থাকে। কিন্তু যদি পৃথিবীতে পানির বদলে পাথরের বৃষ্টি হতো? তাহলে কেমন হতো? হয়তো আপনার কাছে আজগুবি গল্প লাগবে কিন্তু Corot-7b নামের গ্রহটিতে এরকমই হয়। এই গ্রহটি নিজের নক্ষত্রের বেশ কাছে এবং টাইডালি লকড অবস্থায় আছে। টাইডালি লকড বলতে বোঝানো হয় যেসব গ্রহ বা উপগ্রহের একটি দিক সবসময় তার নক্ষত্রের দিকে মুখ করে থাকে এবং আরেকটি দিক সবসময় ওই নক্ষত্রের বিপরীতে থাকে। এখানে বলে রাখা ভালো আমাদের একমাত্র উপগ্রহ চাঁদও টাইডালি লকড।

আরও পড়ুন
মানুষের নতুন সাফল্য, চাঁদের আলোকিত অংশে পানির অস্তিত্বের প্রমাণ পেল নাসা

সে জন্য পৃথিবী থেকে সবসময় চাঁদের একটি অংশই দেখা যায়। টাইডালি লকড হওয়ার কারণে Corot-7b গ্রহটির যে অংশটি নক্ষত্রের দিকে মুখ করে আছে ওইদিকে তাপমাত্রা সবসময় ২৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকে। আর আরেকদিকে মাইনাস ১৭৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামে।

এ গ্রহের যেদিকটা তার নক্ষত্রের দিকে মুখ করে আছে সেদিকটা তাপমাত্রা এতটাই বেশি থাকে যে সেদিককার পাথরগুলো গলে বাস্প হয়ে উড়ে যায়। সেই বাস্প থেকেই ওই গ্রহে মেঘ হয়। এরপর ওই মেঘই তরল হয়ে বৃষ্টির মতো করে নিচের নদিে নেমে আসে। কিন্তু মাঝপথে ওই গ্রহের শীতল অংশের শীতল হাওয়া এসে তরল পাথরগুলোকে আবার কঠিন পদার্থ বানিয়ে ফেলে। যার শেষ পরিণতি ওকানে পাথরের বৃষ্টি।

ঘণ্টায় ৩৪ হাজার কিলোমিটার বেগে বাতাস
HD 189 733b নামের গ্রহটি পৃথিবী থেকে ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে। এই গ্রহটি দেখতে বেশ সুন্দর এবং সৌরজগতের বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে খানিক বড়। এর সৌন্দর্যের পেছনে এক গোপন রহস্য আছে। তা হলো এই গ্রহের বায়ুমণ্ডল মূলত সিলিকেটের তৈরি। এই গ্রহে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০০০ কিলোমিটা পর্যন্ত ওঠে, তাপমাত্রা ৯২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ গ্রহটিও টাইডালি লকড। তবে আজব বিষয় হলো- টাইডালি লকড হলেও ্ গ্রহের যে দিকটা অন্ধকারাচ্ছন্ন সেদিকটা ঠান্ডা না হয়ে উল্টো উষ্ণই থাকে। আর সেটিও প্রায় ৬৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এর কারণ হিসাবে বলা হয়- উষ্ণ অঞ্চলের হাওয়া অন্ধকারাচ্ছন্ন অঞ্চলে চলে আসে, যার কারণে অন্ধকার অঞ্চলও শেষ পর্যন্ত শীতল থাকতে পারে না। এখানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৪ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে; যেখানে পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ পাওয়া গেছে ঘণ্টায় ৪৮৪ কিলোমিটার।

নদীতে পানি নেই রয়েছে মিথেন
শনির উপগ্রহ টাইটানের রয়েছে নিজস্ব বায়ুমণ্ডল, নদী। সেখানে তরল বৃষ্টিও হয়। কিন্তু জায়গাটা খুবই অদ্ভূত। এখানে তাপমাত্রা মাইনাস ১৭৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এটা একটা অদভুত জায়গা। এখানে পানির অস্তিত্ব তো রয়েছে বরফ আকারে, কিন্তু এখানকার নদী আর ঝিলে পানির বদলে মিথেন পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, এখানেও বৃষ্টি হয় পানির নয়, বরং মিথেনের। পৃথিবীর বাইরে যেত জায়গায় প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বড় আশা রয়েছে টাইটান তার মধ্যে অন্যতম।

Rent for add

Facebook

for rent