ঢাকা: শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

রুদ্রের কবিতা : মধ্যিখানে মধ্যবিত্ত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সব দুর্গাপূজার প্যান্ডেলে দর্শকদের ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে পূজা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া সঙ্গত কি না তা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় সোমবার হাইকোর্ট রাজ্যের সমস্ত পুজো প্যান্ডেলকে ‘নো এন্ট্রি’ জোন হিসাবে ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ছোট-বড় সমস্ত মণ্ডপের চারপাশে ৫ থেকে ১০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত ব্যারিকেড করে দিতে হবে। ‘নো এন্ট্রি’ ঘোষণা করতে হবে সেই ব্যারিকেড করা অংশকে। সেখানে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। পূজার প্রয়োজনে যাদের ঢুকতে হবে, মণ্ডপের বাইরে তাদের নামের তালিকা টাঙিয়ে রাখতে হবে। মণ্ডপের ভিতর ১৫ থেকে ২৫ জনের বেশি ঢুকতে দেওয়া হবে না। ঢুকতে দেওয়া যাবে না ওই তালিকার বাইরেও কাউকে। এই দূরত্ববিধি মানার দায়িত্ব নিতে হবে পুলিশ এবং পূজার উদ্যোক্তাদের।

‘‘এ যেন আবেগ আর অসুখের যুদ্ধ! মাননীয় হাইকোর্ট যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা বাংলার প্রতিটি মানুষের ভালর জন্যই। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তার পরেও প্রশ্ন জাগছে, ৫ বা ১০ মিটার ব্যারিকেডের বাইরে সবাই সুশৃঙ্খল থাকবেন। মণ্ডপে পা রাখলেই সবাই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বেন?’’ হাইকোর্টের রায় নিয়ে আপাতত এই দ্বন্দ্বে ভুগছেন রুদ্রনীল ঘোষ। আর মধ্যিখানে মধ্যবিত্ত কবিতায় এ বিষয়টি তুলে ধরলেন তিনি।


হাইকোর্ট দিল নিষেধাজ্ঞার রায়
মায়ের বদলে প্যান্ডেল দেখে বাড়ি
এ রায় শুনে একদল খুব খুশি, অন্য দলের কাছে এটা বাড়াবাড়ি।

আবেগ বনাম অসুখের ম্যাচ শুরু
দুর্গা ঠাকুর চুপ করে দেখে খেলা
গ্যালারিতে সব আমরা কাঠের পুতুল, কর্মকর্তা বুঝছে কেমন ঠেলা।

তবু আমার বাড়ির কেনাকাটা সব শেষ
জামা, প্যান্ট, জুতো আর সালোয়ার-শাড়ি
লকডাউনে মাইনে হয়েছে হাফ,
তবু জীবনে টিকে থাকা দরকারি।

পকেটের টানে কপালে জমেছে ঘাম
তবুও সে ঘাম লুকোয় রুমাল ঘষে
ছেলে-বউ পাছে বুঝে ফেলে যদি আমায়
হাসির মুখোশ পরে ফেলি বাড়ি এসে।

আরও পড়ুন
Xiaomi : ১৯ মিনিটেই ফুল চার্জ হবে ফোন

জুতোর দোকানে উপচেপড়েছে ভিড়, সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল করে ছবি,
যারা ভিড় করে সেলের অফার নিতে, তারাও জানে মৃতদেহ হবে কবি

হ্যাঁ ভিড় বাসে ঝুলে আমাদের যাতায়াত,
আমরাও জানি মুঠোয় নিয়েছি প্রাণ।
তবু জ্ঞান দেয় ট্যাক্সি চড়নেওয়ালা- এভাবে কেন যে বাসে করে দাদা যান!
ইচ্ছা করে কি মৃত্যুকে ভালোবাসি, আমরা কিচ্ছু জানি না এমন ভাবো?
খালি পেটে যারা জীবন বীমাটা করে
তারা ঠিক জানে কতদিন টিকে যাবো।
পুজোর জুতোয় গ্যারান্টি থাকে লেখা
কবে ছিঁড়ে যাবে, খুলে যাবে কোন সোল
মানুষের কোনো গ্যারান্টিকার্ড নেই
কপালের নাম খুলে রাখা ম্যানহোল
যাদের ব্যাংকে জমানো রয়েছে টাকা
তাদের জীবন সোনার চেয়েও দামি।
আমাদের ব্যাংক জমা থাকে টেনশননে
এসি চললেও বেশি করে আরও ঘামি।

যতগুলো ড্রেস, ম্যাচ করে ততো মাস্ক; কিনেছে আমার পাশের বাড়ির মেয়ে।
ওরা বড়লোক, ভিআইপি পাস পায়
ঠাকুর দেখতো ফাঁকায় ফাঁকায় গিয়ে।
আমি, ছেলে, বৌ ভিড় লাইনের কোটায়
এবারে কি আর ভিড় হবে কোটি কোটি?
দূরত্ব রেখে দাড়ানো এবার নিয়ম..
মাস্ক পরে নাকি মারাবে না কেউ চটি!
করোনার চাপে কোর্টে শুরু শারদীয়া
চিন্তিত মুখে ফুচকা বেলুনওয়ালা।
গরীব চাষিরা ঢাকির পোশাকে সেজে ..
অপেক্ষাতেও রয়েছে উপরওয়ালা।

আরও পড়ুন
আবারও চমকে দিল প্রাচীন সময়, নাজকা লাইনে ১২১ ফুট লম্বা বিড়াল

আসলে বোনাস পাইনি বাড়িতে জানে না কেউ
পুজোর জন্য লুকিয়ে করেছি ধার
হাইকোর্ট যদি রায়টা আগেইা দিত, বেঁচে যেত টাকা, টিকে যেত সংসার।

আবেগ, অসুখ, পুজো, হাইকোর্ট আর……….#মধ্যিখানে_মধ্যবিত্ত

Posted by Rudranil Ghosh on Tuesday, October 20, 2020

Rent for add

Facebook

for rent