ঢাকা: সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

নাইজেরিয়ার পুলিশের বাহিনী সার্সের বিরুদ্ধে মানুষের এত ক্ষোভ কেন

নাইজেরিয়া

নাইজেরিয়ায় পুলিশের এক বিশেষ বাহিনীর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে গত কয়েক বছর ধরে। ওই বাহিনীর বিরুদ্ধে নিরীহ লোকজনের ওপর বর্বর ও নিষ্ঠুর নির্যাতন, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বহু অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি এই সার্স বাহিনীর হাতে নির্যাতনের প্রতিবাদে নতুন করে ফুঁসে উঠেছে নাইজেরিয়া, যাতে উত্তাল হয়ে পড়েছে সারা দেশ।

প্রতিবাদকারীদের বিক্ষোভ এখন নাইজেরিয়ার ছোট বড় বিভিন্ন শহর ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশেও। প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক, বার্লিন থেকে টরন্টো থেকে। বিশ্বের যেখানেই নাইজেরিয়ানরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন সেখানেই তারা এই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করছেন।

নাইজেরিয়ায় জাতীয় পুলিশের বিশেষ এই বাহিনী বা ইউনিটের নাম স্পেশাল এন্টি-রবারি স্কোয়াড। সংক্ষেপে সার্স। দেশটিতে সশস্ত্র ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা বন্ধ করার জন্য ১৯৯২ সালে এই বাহিনীটি গঠিত হয়। এই বাহিনীকে প্রাথমিকভাবে নাইজেরিয়ার বড় একটি শহর লেগোসে সহিংস অপরাধ সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের কাজ ছিল পরিচয় গোপন রেখে সশস্ত্র ডাকাত দল, গাড়ি ছিনতাইকারী, অপহরণকারী, গবাদি পশু চোরদের পাকড়াও করা।

আরও পড়ুন
লুকিয়ে গিটার শিখেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু

শুরুতে সার্সের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৫। নাম-পরিচয় গোপন রেখে তারা অভিযান পরিচালনা করতো। দুটো বাসে করে তারা অপারেশন চালাত। সেই বাসের গায়ে এই বাহিনীর নাম উল্লেখ থাকতো না এবং অফিসাররাও ইউনিফর্ম পরতেন না এবং তাদের গায়েও কারো নাম লেখা থাকতো না।

সেসময় অপরাধী চক্রকে দমন করতে তাদের এই অজ্ঞাত পরিচয়কে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পরে পুলিশের এই বাহিনীটি ধীরে আরো বড়ো হতে থাকলে সেটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একই সাথে বিতর্কিত ও কুখ্যাত হয়ে ওঠে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে।

সমালোচকরা বলছেন, নাম পরিচয় গোপন রাখার অধিকার তাদেরকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোর সুযোগ করে দেয়। কারণ, এর ফলে সুনির্দিষ্টভাবে কারো বিরুদ্ধে হত্যা, গুম খুন কিম্বা নির্যাতনের অভিযোগ আনা কঠিন হয়ে পড়ে। তারা থেকে যায় বিচারের ঊর্ধ্বে।

এই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, চুরি, ধর্ষণ, নির্যাতন, বেআইনি গ্রেফতার, বিনা বিচারে আটক করে রাখা, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকবারই এই বাহিনীটি ভেঙে দেওয়ার দাবি উঠেছে। ২০১৭ সালে এরকম একটি পিটিশনে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ সই করেছিল যা নাইজেরিয়ার জাতীয় পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয় যারা সার্সের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে তারা আসলে বিভিন্ন অপরাধে অপরাধী।

আফ্রিকার দরিদ্র এই দেশটিতে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা এমনিতেই খারাপ। এই বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রায়শই দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, নিষ্ঠুর ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ হলে যা করবেন

আন্দোলনকারীরা বলছেন, মানবাধিকারের বিষয়ে তারা বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করে না। এসব অভিযোগের কারণে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের বিরূপ মনোভাব থাকলেও সার্স বাহিনীর প্রতি তাদের ঘৃণা আরো প্রবল। বিশেষ করে তরুণদের কাছে। কারণ এই বাহিনীর কর্মকর্তারা সবসময় তরুণদের টার্গেট করে থাকে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যেসব তরুণের “স্বাস্থ্য ভাল”, যারা ভাল কাপড় পরে, কিম্বা যারা একটু সচ্ছল পরিবারের, যাদের গাড়ি, দামী মোবাইল ফোন কিম্বা ল্যাপটপ আছে, যাদের নাকে মুখে রিং লাগানো কিম্বা গায়ে ট্যাটু আঁকা, চুলে রঙ করা – তারাই সার্সের কর্মকর্তাদের টার্গেটে পরিণত হয়। রাস্তায় তাদের গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়।

তাদের লক্ষ্য হলো এসব তরুণের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং কেউ এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়, এমনকি হত্যাও করা হয়। নাইজেরিয়ায় খুব সহজেই ধরে নেওয়া হয় যে এসব তরুণরা কোন না কোন অপরাধের সাথে জড়িত। এই সমস্যা দেশটির রক্ষণশীল সমাজের গভীরেও প্রোথিত।

বিবিসি বাংলা থেকে নেয়া।

Rent for add

Facebook

for rent