ঢাকা: বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

বেকার? নতুন কিছু শুরুর কথা ভাবছেন? পড়ুন তাহলে। কাজে তো লাগতেই পারে

আপনি হয়তো নতুন ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন বা জীবনে নতুন কোনো কাজ শুরু করতে চাচ্ছেন। মনে রাখবেন সে কাজে সফলতার মূলমন্ত্র আপনার একাগ্রতা। একাগ্রতা, শ্রম এগুলো মূলমন্ত্র হলেও শুধু তা দিয়েই সফলতা আসবে না। এরজন্য আপনাকে বুদ্ধি করেও এগোতে হবে। ব্যবসায় সফলতার জন্য খুঁটিনাটি অনেক বিষয়েই আপনাকে নজর রাখতে হবে। দুটি গল্প দিয়ে ব্যপারটি পরিষ্কার করা যাক।

এক গ্রামে ভোলা নামে একটি লোক ছিল। সে খুবই সহজ সরল একজন মানুষ। ওই গ্রামেরই একজন ব্যবসায়ী, মনে করি তার নাম সোহেল, ভোলাকে একবার একটা কাজ দিল। কাজটি হলো পুরো গ্রামের সব বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওই গ্রামে কতগুলো পরিবার আছে, বিবাহিত কতজন আর কতজন অবিবাহিত রয়েছে তার একটা হিসাব করা।

প্রথম ৫টি বাড়িতে ভোলা খুব সহজে তথ্য পেল। কিন্তু ৬ নম্বর বাড়িতে গিয়ে একটা সমস্যাটা হলো। ষষ্ঠ বাড়িতে ভোলার সাথে কথা হলো এক নারীর। ভোলা তাকে জিজ্ঞাসা করলো আপনার নাম কি? তিনি বললেন শিল্পী। এবার ভোলা তাকে জিজ্ঞাসা করে আপনার বাচ্চা কয়জন? সে জবাব দিল তিনজন। এবার ভোলা তাকে জিজ্ঞাসা করে আপনি কি বিবাহিত না অবিবাহিত? এই প্রশ্ন শুনে ওই নারী একটাই ক্ষিপ্ত হয় যে, সে ভোলাকে স্যান্ডেল পেটা করে। অবস্থা বেগতিক দেখে আশপাশের লোকজন এসে ভোলাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে তার ভুলটা বোঝায়।

ভোলা ব্যাপারটা বুঝতে পারে এবং এই ভুল যেন আর না হয় সেটা সে শক্তভাবে মাথায় রেখে পরের দিন আবার নিজের কাজ শুরু করে। এবারও এক বাড়ি গিয়ে আরকে নারীর সাথে ভোলার কথা হচ্ছে। নাম জিজ্ঞাসা করার পর ভোলা এবার জানতে চাইলো আপনি বিবাহিত না অবিবাহিত? ওই নারী জবাব দেয় অবিবাহিত। এরপর ভোলা জিজ্ঞেস করে আপনার বাচ্চা কয়জন? ফলাফল এবারও জুতার বাড়ি।

আরেকটি গল্প। একবার ভোলা তার এক বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে সে দেখল যে সবাই সেই বন্ধুকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে এই বলে যে- হ্যাপি রিটার্নস অব দ্য ডে। ভোলা দেখল এতে তার বন্ধু খুব খুশি হচ্ছে। ভোলাও ব্যাপারটা ঝটপট শিখে নিল। এবার ভোলা গেছে তার আরেক বন্ধুর বিয়েতে। সেখানে গিয়ে আগের শিক্ষা মোতাবেক ভোলা নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাল হ্যাপি রিটার্নস অফ দ্য ডে বলে। ফল হীতে বিপরীত। ভোলা মার খেতে খেতে কোনো রকমে বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বাঁচল।

আরও পড়ুন
কেমন হলো গিনি ওয়েডস সানি

এ দুটি গল্প থেকে আমরা যে শিক্ষা নিতে পারি সেটিকে আমরা চাণক্য নীতির সাথে মিল রেখে বোঝানোর চেষ্টা করছি- চাণক্য নীতিতে বলা হয়েছে ব্যক্তির উপরে ধ্যান দাও। যেখানে ভোলা ভুল মানুষকে ভুল প্রশ্ন করেছিল।

তাই আপনি নতুন যে কাজই শুরু করেন না কেন, সেটা যে কাজই হোক সেখানে কার সাথে কখন, কোথায়, কিভাবে কথা বলতে হবে সেটি খুব সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করেই তারপরে কথা বলতে হবে। কারণ যে কথা বলেছেন তা আর পরে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ থাকবে না।

এখানে দ্বিতীয় ভুলটি হলো ভোলাকে নিয়োগ দেয়া হয়। ভোলাকে যিনি নিয়োগ দিয়েছিলেন তিনি সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে অথবা সম্পর্কের খাতিরে তাকে কাজে নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোলা এই কাজের জন্য যোগ্য ব্যক্তি ছিল না। অর্থাৎ যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ না দিলে তার ফলাফল কখনোই ভালো আসবে না। তাই আপনি নতুন যে কাজ শুরু করছেন সেখানে কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে অযোগ্য লোককে নিয়োগ দিলে ফল পাওয়া যাবে না।

এবারে আসা যাক আরেকটি প্রসঙ্গে। বেঁচে থাকতে টাকা উপার্জনের বিকল্প নেই। টাকা উপার্জনের দুটি উপায়ের কথা বলা হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে ধীরে এবং আরেকটি হচ্ছে খুব দ্রুত। ধীরে টাকা উপার্জনের উপায়টি আসলে বহুল প্রচলিত এবং প্রাচীন একটি ধারণা। আপনার আশপাশের মানুষেরা, আপনার পরিবার, আপনার আত্মীয়-স্বজন, বাবা-মা সবাই আপনাকে মূলত এই নীতিই বেছে নিতে বলবেন বা উৎসাহ জোগাবেন। এ পন্থাটি নিসন্দেহে উত্তম। তবে সমস্যা হলো এখানে আপনাকে সারাজীবন আর্থিক চাপের মধ্যে থাকতে হবে।

আর দ্রুত টাকা উপার্জন করার জন্য আপনাকে এমন একটি সিস্টেম তৈরি করে (কাজের মাধ্যমে ও বৈধ উপায়ে) ফেলতে হবে যাতে আপনার হাতে খুব দ্রুত টাকা পয়সা চলে আসে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে যা করতে হবে তা হলো আপনাকে হাই ইনকাম স্কিল ডেভলপ করতে হবে। আপনাকে এতটা দক্ষতা অর্জন করতে হবে যেন আপনি প্রতিমাসে ৫ হাজার ডলারের বেশি উপার্জন করতে পারেন।

মনে রাখবেন ওয়ার্কিং মার্কেট আপনার কাছে মোটেও কোনো সার্টিফিকেট চায় না। তার আপনার কাছে চায় দক্ষতা। কিছু হাই ইনকাম স্কিলের উদাহরণ দিতে গেলে বলা যেতে পারে- অনলাইন প্রডাক্ট সেলিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনসাল্টিং, কপিরাইটিং পাবলিক স্পিকিং ইত্যাদি।

আরও পড়ুন
সিনেমা হলের আমেজ হোম থিয়েটারেই

ধরুন আপনি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিস্ট। এখন আপনি একটি ই-কমার্স সাইট নিয়ে কাজ শুরু করলেন। এই সাইটের কনভার্শন রেইট হচ্ছে এক শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে সাইটটা ভিজিট করলে সেখান থেকে কেনাকাটা করে একজন এবং তাতে এই কোম্পানির বার্ষিক মুনাফা হয় ১০ কোটি টাকা।

এখন আপনি যোগ দেয়ার পরে এই ওয়েবসাইটটিতে কিছু কাজ করলেন যার ফলে কনভার্শন রেট দাঁড়াল ৩ শতাংশে। অর্থাৎ ওই প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক মুনাফা বেড়ে দাঁড়াবে ৩০ কোটি টাকা। আপনি একটু ভাবুন যে ব্যক্তির জন্য কোম্পানির এত টার্নওভার কোম্পানি সেই ব্যক্তিকে টাকা দেবে না তো কাকে দেবে?

আমরা অনেকেই মনে করে থাকি যে বেশি সময় ধরে কাজ করলেই বেশি টাকা উপার্জন করা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো যে, হাই ইনকাম স্কিলই হলো আসলে বেশি টাকা উপার্জনের পথ। তাই নিজের সেক্টরে স্পেশালিস্ট হওয়ার চিন্তা করুন। যত শ্রম দেয়া লাগুক দিন, কিন্তু নিজের কাজের ক্ষেত্রে স্পেশালিস্ট হয়ে উঠুন। নিজের কাজে সেরা হয়ে উঠুন।

এখন সময়টা ইন্টারনেটের। তাই আপনার যেখানে দক্ষতা আছে সেটা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবাইকে জানতে দিন। হতে পারে এর ফলে কারো যদি আপনার সার্ভিস নেয়ার প্রয়োজন হয় সে জানতে পারবে আপনি কোথায় দক্ষ। আর তার প্রয়োজন আর আপনার দক্ষতা যদি মিলে যায় সেটা আপনার জন্য বড় একটা সুযোগ হয়ে আসতে পারে।

এখন সব সময় মনে রাখবেন যে শুধু গাড়ি-বাড়িই সম্পদ নয়। আপনার কোনো ভাল আইডিয়া, কাস্টমার ডাটা, পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এই সবকিছুই এখন সম্পদ।

পরের পয়েন্টটা হলো হাই রিটার্ন ইনভেস্টমেন্ট। এখন আপনাকে এমন একটা জায়গাতে ইনভেস্ট করতে বলবো যেখানে ইনভেস্ট করলে একশ পার্সেন্ট লাভ, কোন লস নেই। সেই জায়গাটা হলো নিজের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা। নিজের দক্ষতা উন্নয়নে আপনি যে বিনিয়োগ করবেন তা কখনই বিফলে যাবে না। তাই নিজের উন্নয়নে সবসময় মনোনিবেশ করুন।

টাকা-পয়সা হলো বিড়ালের মতো। এমন মনে করার কারণ নেই যে আপনি এর পিছনে দৌড়ালেই তাকে ধরে ফেলতে পারবেন। বরং আপনি যদি নিজের কাছে একটা মাছ রাখেন বিড়াল নিজে আপনার কাছে আসবে। দক্ষতা হলো সেই মাছ। এটা যদি আপনার থাকে টাকা-পয়সা নিজে আপনার কাছে ধরা দেবে।

Rent for add

Facebook

for rent